
মোঃ সানোয়ার হোসেন,
নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের মানুষের চিকিৎসার প্রধান ভরসা পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সরকারি সিদ্ধান্ত থাকলেও বাস্তবে এখানে রয়েছে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে রোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালের নির্ধারিত ৩ টাকার টিকিট ৫ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত টিকিটের বদলে সাদা কাগজে সিল মেরে টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে টিকিট কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীর কাছে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
রোগীরা জানান, এর আগেও একাধিকবার অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। ফলে তারা এখন আর অভিযোগ করেও লাভ দেখছেন না। তাদের দাবি, ন্যায্য চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেলেই তারা সন্তুষ্ট থাকবেন, কিন্তু সেটিও অনেক সময় মিলছে না।
আগিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. বকুল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “৩ টাকার টিকিটের জন্য ৫ টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো ওষুধ পাইনি।” অন্যদিকে ঘাগড়া ইউনিয়নের রানা মিয়া বলেন, “প্রায় ৭০ টাকা খরচ করে মাত্র ১০-১৫ টাকার ওষুধ পেয়েছি। এর চেয়ে বাইরে ফার্মেসিতে গেলে ভালো হতো।”
বকুল মিয়া আরও বলেন, “যে টিকিট দেওয়া হচ্ছে, তা সাদা কাগজে ছোট করে দেওয়া—এতে হাসপাতালের নামও ঠিকমতো বোঝা যায় না। টিকিট না দিয়ে এভাবে টাকা নেওয়া এক ধরনের দুর্নীতি।”
তার প্রশ্ন, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রতিদিন যদি ২ টাকা করে অতিরিক্ত নেওয়া হয়, তাহলে মাস ও বছরে কত টাকা অতিরিক্ত আদায় হচ্ছে—তা ভাবনার বিষয়।
এদিকে বুধবার হাসপাতাল পরিদর্শনে আসেন নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাসুম মোস্তফা, জেলার সিভিল সার্জন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম। তাদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা হলে তারা ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারাও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন। পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এ এস এম শহীদুল্লাহ ইমরান এবং সংসদ সদস্য মানসুরা আলম বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, “৩ টাকার টিকিটের বেশি নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

