
নিজস্ব প্রতিবেদক:
যশোর বন সংরক্ষক কার্যালয়ের অনিয়ম দিন দিন বেড়েই চলেছে এযেন দেখার কেউ নেই, সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা নিজেদের ইচ্ছামত অফিস আসতে দেখা গেছে।
অব্যবস্থাপনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পরও শুধরায়নি সেখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আচরণ। কার্যালয়টিতে এখনো চলছে চরম শিথিলতা ও নিয়মভঙ্গের মহোৎসব।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উপস্থিত হতে হবে, তবে বনসংরক্ষক অফিসে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে ৯ টার পরে আসতে দেখা গেছে।
বনসংরক্ষক কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী মোঃ সজীব তিনি অফিসে না এসে চায়ের দোকানে এসে বসে থাকেন সজীবকে ফোন দিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আমি এসে চায়ের দোকানে ছিলাম তিনি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলেছে নিজের ইচ্ছায় যখন মন চায় তখন অফিসে আসেন।
গত ৮ জুলাই যশোর বার্তায় “বন সংরক্ষক সময় মতো অফিসে আসেনা,ওড়েনা জাতীয় পতাকা ” শিরোনামে একটি অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিন্তু সেই সংবাদের পরও দাপ্তরিক শৃঙ্খলায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এখনো তাদের খেয়ালখুশি মতোই অফিসে যাতায়াত করছেন।
সম্প্রতি সরেজমিনে অনুসন্ধানে গিয়ে হিসাবরক্ষক নাদিম উদ্দিন কে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান স্যার ( বন সংরক্ষক – মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ খাঁন,) অফিসের কাজে যশোরের বাইরে আছেন,তাই তিনি না থাকায় দাপ্তরিক শৃঙ্খলা আরো ভেঙে পড়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিসের নির্ধারিত সময় তো মানছেনই না, বরং নানা অজুহাতে পার পেয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
অফিসের পাশেই ডরমিটরিতে অবস্থান করা সত্ত্বেও সাহিদা পারভীন অফিসে প্রবেশ করেন সকাল ৯:১৯ মিনিটে। দেরিতে আসার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অসুস্থতার অজুহাত দেন। অন্যদিকে, আরেক কর্মচারী মাসুদ আলম অফিসে ঢোকেন সকাল ৯:১৮ মিনিটে। তিনি দাবি করেন, দূর থেকে আসার কারণে তার সময়মতো পৌঁছাতে দেরি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বন সংরক্ষকের ব্যক্তিগত সহকারী (স্টেনো টাইপিস্ট) সজিব হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি পদের প্রভাব খাটিয়ে নিয়মিত অফিস ফাঁকি দেন এবং পাশের চা দোকানে বসে সময় কাটান বলে অভিযোগ। গত ৭ জুলাই অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকরা অফিসে উপস্থিত হলে সজিব হোসেনকে বেলা ১০টার পরও কার্যালয়ে দেখা যায়নি। সর্বশেষ ২১ জুলাই তার পুনরাবৃত্তি ঘটে সাংবাদিকরা যখন অফিস থেকে বের হয়ে আসেন, তখনও (সকাল ৯:২৬ মিনিট পর্যন্ত) তিনি অফিসে অনুপস্থিত ছিলেন—যা সেখানে উপস্থিত অন্যান্য স্টাফরাও নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে মুঠোফোনে জানতে চাইলে সজিব হোসেন দাবি করেন, তিনি সাড়ে ৯টার আগেই এসে চা দোকানে বসেছিলেন।
কার্যালয়ে কর্মচারীদের এই দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার বিষয়ে হিসাবরক্ষক নাদিম উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, “আসলে সবার সময়মতো অফিসে আসা উচিত। কিন্তু আজ তাদের দেরি হয়ে গেছে, তাই এবারের মতো বিষয়টি ক্ষমার চোখে দেখার অনুরোধ করছি।”
বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ খাঁন যশোরের বাহিরে থাকার কারণে তাকে মুঠোফোনে কল করেও পাওয়া যায় নি।
সংবাদ প্রকাশের পরও সরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ ও প্রশাসনিক শিথিলতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ এবং দ্রুত জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

