
মোহাম্মদ আলী ভূঁইয়া,
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় একটি মুদি দোকানে সাত বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ডেকে নিয়ে অশ্লীল ভিডিও দেখানো এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে এক দোকানদারকে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ সোমবার (২০ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে উপজেলার রোদার পুড্ডা বাজারে অভিযান চালিয়ে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ রেহেনা মজুমদার মুক্তি।
দণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যবসায়ীর নাম মোঃ জয়নাল আবেদীন। সে উপজেলার রোদার পুড্ডা বাজারের একজন মুদি দোকানদার।
ঘটনা ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজ সকালে ওই স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর শিক্ষার্থী (০৭) রোদার পুড্ডা বাজারের জয়নাল আবেদীনের মুদি দোকানে কিছু কিনতে যায়। এ সময় দোকানে অন্য কোনো ক্রেতা না থাকার সুযোগে জয়নাল শিশুটিকে প্রলোভন দেখিয়ে তার কাছে ডাকে। এরপর নিজের মোবাইল ফোনে ধারণকৃত অত্যন্ত আপত্তিকর ও অশ্লীল ভিডিও শিশুটিকে দেখায় এবং একপর্যায়ে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানি করে।
শিশুটি দোকান থেকে বাড়ি ফিরে কান্নাকাটি করতে করতে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। পরিবারের লোকজন তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন।
খবর পেয়ে নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ রেহেনা মজুমদার মুক্তি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় উপস্থিত সাক্ষী ও প্রশাসনের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন নিজের অপরাধের কথা অকপটে স্বীকার করে।
আদালতের রায় ও শাস্তি
অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট মোছাঃ রেহেনা মজুমদার মুক্তি তাকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নগদ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও মেয়াদের কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য:
নিকলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ রেহেনা মজুমদার মুক্তি গণমাধ্যমকে বলেন, “শিশুদের সুরক্ষায় এবং এ ধরনের সামাজিক অবক্ষয় রোধে আমাদের প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। প্রকাশ্য দিবালোকে একটি অবুঝ শিশুর সাথে এমন আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। অপরাধী নিজের দোষ স্বীকার করায় তাকে তাৎক্ষণিকভাবে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলার কোথাও নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযান শেষে দণ্ডপ্রাপ্ত জয়নাল আবেদীনকে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে প্রেরণের জন্য নিকলী থানা পুলিশের হেফাজতে সোপর্দ করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে। এই ঘটনার পর রোদার পুড্ডা বাজারসহ পুরো নিকলী উপজেলার সচেতন মহলের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসনের এমন দ্রুত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

