
মোঃ মাহাবুল ইসলাম মুন্না.
রাজশাহীর গোদাগাড়ী পৌর এলাকার মহিশালবাড়ী সাগরপাড়া গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারি আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও গোদাগাড়ী থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার সকালে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্র জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন আবুল কালাম আজাদ। সম্প্রতি এলাকায় ফিরে প্রকাশ্যে চলাফেরা এবং মাদক ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে। সরকারের চলমান মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার হওয়ার পর তাকে নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
গত ১৯ জুলাই ‘স্ত্রীসহ গোদাগাড়ী থানার ওসির কক্ষে মাদক কারবারি আজাদ’ শিরোনামে একটি অনলাইন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনের আগে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করলে আবুল কালাম আজাদ প্রতিবেদককে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একই দিন তার স্ত্রী আরমিনা আক্তারও মুঠোফোনে হুমকি দেন বলে জানা যায়।
পরে বিষয়টি রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ এবং রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানের নজরে এলে ডিআইজির বিশেষ নির্দেশনায় তাকে গ্রেপ্তারের অভিযান পরিচালনা করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, আবুল কালাম আজাদ দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে হেরোইন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়েছিলেন। সরকার পতনের পর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অর্থের জোগানদাতা হিসেবেও তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সাতটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় তার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড হয়েছিল। পরবর্তীতে তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া মাদক ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন—এমন অভিযোগের ভিত্তিতে তার সম্পদের উৎস ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনুসন্ধান চালাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্তপ্রাপ্ত আসামি আবুল কালাম আজাদ। তাকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

