
কবির হোসেন রাকিব, (লক্ষ্মীপুর) :
ডিউটি শেষে সবাই যখন ঘরে ফেরে, তখন তার জেগে ওঠার পালা। ঝড়-বৃষ্টি কিংবা কনকনে শীত—সব উপেক্ষা করে গত ২০টি বছর ধরে একটি রাষ্ট্রীয় সম্পদ পাহারা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। অথচ মাস শেষে তার কপালে জোটে না একটি টাকাও! শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, এমনই এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ৩ নং চর লরেন্স ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুরুজ্জামান।
উপজেলার করইতলা বাজারের উত্তর পাশে অবস্থিত সরকারি খাদ্য গুদামে (খাদ্য গোডাউন) দীর্ঘ ২০ বছর ধরে সম্পূর্ণ বিনা বেতনে প্রহরীর চাকরি করে যাচ্ছেন এই নিরলস মানুষটি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ দুই দশক ধরে এই খাদ্য গুদামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত এক করে দায়িত্ব পালন করছেন নুরুজ্জামান। সরকারি এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার পাহারায় কোনো অবহেলা না করলেও, দীর্ঘ ২০ বছরেও তার ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। বেতন তো দূরের কথা, কোনো ধরনের সরকারি সুযোগ-সুবিধাও পাননি তিনি।
বিনা বেতনে কাজ করায় বর্তমানে স্ত্রী ও ছেলে-সন্তান নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন নুরুজ্জামান। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের আকাশচুম্বী দামের এই বাজারে নুন আনতে পান্তা ফুরানোর দশা তার পরিবারের। নিজের ও পরিবারের মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে না পেরে এক বুক কষ্ট আর অভাব-অনটন নিয়েই বছরের পর বছর পার করছেন তিনি।
নুরুজ্জামানের এই মানবিক ও কষ্টের জীবনকাহিনী এখন স্থানীয়দের মুখে মুখে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—একজন মানুষ কীভাবে দীর্ঘ ২০ বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক ছাড়া একটি সরকারি গুদাম পাহারা দিয়ে যেতে পারেন? এই অমানবিক পরিস্থিতি থেকে কি নুরুজ্জামানের মুক্তি মিলবে না?
নুরুজ্জামানের এই দীর্ঘ ত্যাগের মূল্যায়ন করে তাকে স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা করে দেওয়া অথবা মানবিক বিবেচনায় আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন, খাদ্য বিভাগ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুনির্দিষ্ট হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সচেতন মহল। যাতে এই সৎ ও পরিশ্রমী মানুষটি তার সন্তানদের নিয়ে একটু খেয়ে-পরে মানুষের মতো বেঁচে থাকতে পারেন।

