
নিজস্ব প্রতিবেদক,
যশোর সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের গোয়ালদাহ এলাকার সুপার ইটভাটার সামনে ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে মাটি ব্যবসায়ী মোঃ শান্তর বিরুদ্ধে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কেটে সুপার ইটভাটায় বিক্রি করছেন।
১৫ থেকে ২০টি টলি দিয়ে মাটি নিতে দেখা যায় আশপাশের ফসলি জমির খতি করার কারণে এই বছরে তাদের ফসল ফলানো সম্ভব হবে না জানিয়েছেন।
শুধু তাই নয় এমন ভাবে রাস্তায় মাটি পড়েছিল এখন বৃষ্টি হওয়ার পর রুপ নিয়েছে কাঁদায়, এমন ভাবে কাঁদা হয়েছে যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
সুপার ইটভাটার সামনে দিয়ে মাটির গাড়ি চলাচলের কারণে এমন ভাবে রাস্তার ক্ষতি করেছেন, কাঁদায় গাড়ি চলাচলে ঝূঁকিপূর্ণ হয়ে গিয়েছে বৃষ্টি হলেই গাড়ি চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে স্থানীয়দের।
গোয়ালদাহ এলাকার স্থানীয়রা বলেন আমরা বৃষ্টির পর গাড়ি নিয়ে চলাচল করতে পারি না। তারা বলেন আমাদের এই রাস্তা দিয়ে এতো পরিমাণ মাটির গাড়ি চলাচল করে যার কারণে যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে এর দায়ভার কে নিবে?
স্থানীযরা বলেন বিভিন্ন স্থান থেকে ফসলি জমি ও পুকুর খনন করে অবাদে চলছে মাটি বিক্রির হিড়িক। এই বিষয়ে কাউকেই খোঁজখবর নিতে দেখা যায় না।
তারা বলেন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি যে ভাবে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে পরবর্তীতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।
সাংবাদিকদের স্থানীয়রা বলেন সব মাটি কেটে বিক্রি করছে সুপার ইটভাটায়।
স্থানীয়রা জানায় আমরা ভয়ে কিছু বলতে পারছি না। কারণ যারা ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে তারা এলাকার প্রভাবশালী নেতা।
তাই ভয়ে আমরা কিছুই বলতে পারছি না। তারা বলেন মাটি যে কাটছে সে এই চাঁচড়া ইউনিয়নের প্রভাবশালী একজন নেতা।
স্থানীয়রা আরো বলেন আমরা কিছু বলতে গেলে আমাদের বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি দেখায় এই কারণেই এলাকার কেউ কিছু বলে না।
তারা বলেন মাটির ব্যবসায়ীরা ভালো ভাবে মাটি বিক্রি করে যাচ্ছেন।
যে ভাবে মাটির গাড়ি চালিয়ে যাচ্ছে, তাতে রাস্তা বেশি দিন টিকবে না তারা বলেন আপনারা নিজেরাই দেখে যান কি পরিমান মাটি রাস্তায় পড়েছে এবং কাঁদা হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন আমরা প্রশাসনের কাছে একটি দাবি জানাচ্ছি যে ভাবে হোক এই রাস্তায় আর কোন মাটির গাড়ি যাতে না চলে এর ব্যবস্থা নিবেন।
স্থানীয়রা বলেন যত দ্রুত সম্ভব পরিবেশ ও রাস্তার ক্ষয়ক্ষতি আর যাতে না করতে পারে, মাটি ব্যবসায়ীরা তার একটা ব্যবস্থা করুন।
স্থানীয়রা সাংবাদিকদের বলেন আপনারা সরাসরি দেখে গেলেন আপনাদের মাধ্যমে আমাদের এই কষ্ট যেন দূর হয়।
সাংবাদিকরা মাটি ব্যবসায়ী মোঃ শান্তর সাথে কথা বলেন তিনি সাংবাদিকদের বলেন মাটির ব্যবসা প্রথম শুরু করেছি, তিনি সাংবাদিকদের বলেন ১৭ বছর ধরে আমরা কিছু করতে পারিনি বর্তমান একটু ব্যবসা শুরু করেছি আপনারা কেন এসে ঝামেলা তৈরি করছেন, শান্তু আরো বলেন ঠিক আছে আমি সব জায়গা থেকে পাস এনে মাটি কাটবো এর আগে মাটি কাটা হবে না।
পরে রাতে এলাকাবাসী জানায় আবারো রাতে মাটি কাটা শুরু করেছে, এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন মাটি কেটে বিক্রি করছি আপনাদের কি, শান্ত সাংবাদিকদের বলেন আপনারা জানেন আমি কি করতে পারি, ভিডিও ফুটেজে সোনা যায় তিনি বারবার বলছেন আমি ফোন দিবো ফোন দিবো কিন্তু তিনি কাকে ফোন দেওয়ার কথা বলেন এই বিষয়টি বলতে রাজি নন তিনি এবং হটাৎ করে উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের হুমকি দেয়, তিনি বলেন আমি ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছি আরো করবো আপনাদের কোন সমস্যা হচ্ছে তিনি বলেন আমার এলাকায় মাটি কেটে বিক্রি করছি আপনাদের আর যেন এই এলাকায় না দেখি।
তিনি বলেন আমি ফসলি জমি থেকে মাটি কাটি অথবা অন্য জায়গা থেকে মাটি কেটে বিক্রি করি আপনাদের কি, আপনারা যা মন চায় তাই করতে পারেন আমার কোন সমস্যা নেই।
সদর উপজেলার নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ শাহরিয়ার হক কে, ফসলি জমি থেকে মাটি কাটার বিষয়ে জানানো হয়, তিনি বলেন এই বিষয়ে চাঁচড়া পুলিশ ফাঁড়ি থেকে কর্মকর্তা ও গ্ৰাম পুলিশ পাঠানো হয়েছে তাৎক্ষণিক ভাবে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, পরবর্তীতে যদি ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হয় তাহলে মাটি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমি এসিস্ট্যান্ট মোঃ শামীম হোসাইনকে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করার বিষয়ে জানানো হয়েছে, তিনি বলেন পুলিশ পাঠিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, এর পরে যদি আবার মাটি কাটার অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে মাটি ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

