
নিজেস্ব প্রতিনিধি :
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে চেক জালিয়াতির মামলায় ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত ও দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত শিক্ষকের নাম মোঃ খাইরুল ইসলাম। তিনি উপজেলার শেরখালী গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে এবং কাগমারী-বারমাসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় কোটচাঁদপুর থানা পুলিশ তাকে হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্ট, ১৮৮১ (The N.I. Act)-এর ১৩৮ ধারায় দায়েরকৃত একটি চেক জালিয়াতি মামলায় (মামলা নম্বর: কেস ৭-১২৯/২৬) আসামি খাইরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়। বিজ্ঞ বিচারক ফৌজদারী কার্যবিধির ৭৫ ধারা মোতাবেক আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করেন। রায়ে আদালত আসামিকে ০৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ৬,৩০,০০০ (ছয় লক্ষ ত্রিশ হাজার) টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৫/০২/২০২৫ তারিখে প্রথম পরোয়ানা ইস্যুর পর আসামি খাইরুল ইসলাম দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ জজ ও দায়রা জজ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক কোটচাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষে কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের (সদর) মাধ্যমে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন।
এদিকে, একজন দায়িত্বশীল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের এমন অর্থ আত্মসাৎ ও চেক জালিয়াতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয় শিক্ষা অঙ্গন ও শেরখালী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, আদালতের এই দৃষ্টান্তমূলক রায় সমাজের অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে একটি কঠোর বার্তা।

