
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এলাকা থেকে সেনা ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সরকারি জায়গা দখলের মহোৎসব শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে দখল প্রক্রিয়ায় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীর নাম আসায় দলটি জেলায় তীব্র ইমেজ সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছে সচেতন মহল।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেডিকেল কলেজের সামনের সরকারি জায়গায় বাঁশ ও রশি দিয়ে প্লট আকারে ভাগ করে দখলের চিহ্ন দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেনা ক্যাম্প স্থানান্তরের পরপরই স্থানীয় কিছু নেতা এসে যার যার অংশ চিহ্নিত করে যান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দখলবাজি, টেন্ডারবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনসহ নানা অপকর্মে জেলার একাংশের নেতাকর্মী জড়িয়ে পড়েছে। জেলা নেতাদের নির্দেশনা মানছেন না ওয়ার্ড পর্যায়ের কর্মীরাও। ফলে দলের মধ্যে চেইন অব কমান্ড ভেঙে পড়েছে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির এক সিনিয়র নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার দায় দল নেবে না। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। দোষীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সামনের জায়গা দখলের ঘটনায় এখন পর্যন্ত বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, “সরকারি জমি দখলের তথ্য আমরা পেয়েছি। তালিকা করে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হবে। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ নেই।”
সচেতন মহলের মতে, দলের হাইকমান্ড এখনই এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে না পারলে এর পরিণতি হবে আরও ভয়াবহ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অভিমত, দখল ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা না নিলে জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ণ হবে।

