
আল মুজাহিদ-(যশোর)
যশোরের শার্শা উপজেলার ২নং লক্ষণপুর ইউনিয়নে একাধিক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের স্বজনদের দাবি, গতকাল রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কয়েকজনকে তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তাদের রক্তাক্ত ও আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের শিকারদের মধ্যে রয়েছেন শার্শা উত্তর এলাকার সাবেক শিবির সভাপতি আবুজর হোসেন, জামায়াতের রোকন আবু দাউদ, স্থানীয় জামায়াত কর্মী বিল্লাল হোসেন, আয়ুব হোসেন, ইয়ারিং আলী, শিবির কর্মী শুভ এবং আরও কয়েকজন। এছাড়া রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা সাদ্দাম হোসেনকেও তার নিজ বাসা থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে এসব ব্যক্তিকে আটক করে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। মারধরের ফলে কয়েকজন গুরুতর আহতন হয়েছেন বলে স্বজনরা জানিয়েছেন। আহতদের মধ্যে কেউ কেউ চিকিৎসা নিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এ ঘটনায় লক্ষণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব খোকন, মিলন, লাল্টু ও হাবু নামে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করছেন, অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা ও নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাজনৈতিক মতভেদ বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে কাউকে তুলে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করার ঘটনা অত্যন্ত নিন্দনীয় এবং এটি আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকিস্বরূপ। তারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে এলাকাবাসীর একটি অংশ অভিযোগ করেছেন, ঘটনার পরও স্থানীয় সংসদ সদস্য বা প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের মতে, এ ধরনের ঘটনা এলাকায় দীর্ঘমেয়াদে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। তাই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই দ্রুত বিচার ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। মানবাধিকার সচেতন মহলেরও দাবি, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এ বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত তদন্ত শুরু করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করবে।

