
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়িকান্দি ইউনিয়নের শ্রীঘর বাজারে একের পর এক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। সর্বশেষ গতকাল ০২ জুন (মঙ্গলবার) রাতে বাজারে হঠাৎ কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দে পুরো এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রাণভয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা দ্রুত দোকানপাট বন্ধ করে যে যার মতো নিরাপদ স্থানে চলে যান। আজ ০৩ জুন (বুধবার) সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে গভীর আতঙ্ক ও চাপা ক্ষোভ বিরাজ করতে দেখা গেছে। বারবার ঘটে যাওয়া এই ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ও প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ব্যবসায়ীরা জানান, শ্রীঘর বাজারে কয়েক দিন পরপরই এই ধরনের গোলযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ ও অস্ত্র প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “এই ধরনের সন্ত্রাসী ও ডাকাত চক্রের হাত থেকে আমরা কবে মুক্তি পাব, তা একমাত্র আল্লাহ পাকই বলতে পারেন। বাজারের মধ্যে প্রকাশ্যে পিস্তল নিয়ে ঘুরাঘুরি করা এবং চিহ্নিত ডাকাতরা বাজারে অবাধে অবস্থান করার ফলে আমরা চরম ভয়ে আছি। কোনো নিরাপত্তা নেই, ঠিকভাবে ব্যবসাবাণিজ্য বা দৈনন্দিন কাজ পর্যন্ত করতে পারছি না।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, এই চলমান আতঙ্কের সূত্রপাত ঘটে গত সোমবার (২ জুন, ২০২৬) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে। ওই দিন শ্রীঘর বাজারের ঈদগাহ মোড়ে অবস্থিত ‘সার্চ মানবাধিকার’ অফিসে একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা ককটেল বিস্ফোরণ ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে এলাকায় এক ভীতিকর পরিবেশের সৃষ্টি করে।
এ সময় সন্ত্রাসীরা রামদা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে মানবাধিকার অফিসের সাটার ও ডিজিটাল সাইনবোর্ড কুপিয়ে প্রায় ৫০,০০০ টাকার ক্ষতিসাধন করে।
এই হামলায় বাধা দিতে গেলে সলিমগঞ্জ ইউপির বন্দেবাহেরচর গ্রামের মোঃ সোহেল মিয়ার (২৯) চাচাতো ভাই মানিক (২৪)-কে পিস্তলের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এই ঘটনায় দুজন সহ মোট তিনজন আহত হয়,
এছাড়া হামলাকারীরা অফিসের ভেতর প্রবেশ করে আনুমানিক ১৫,০০০ টাকা মূল্যের ২টি বড় সাইজের স্ট্যান্ড ফ্যান লুট করে নিয়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিট ধরে বাজারে তাণ্ডব চালিয়ে বীরদর্পে চলে যাওয়ার সময় তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে ও ব্যবসায়ীদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
এই বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ সোহেল মিয়া বাদী হয়ে নবীনগর থানায় ৪ জন নামীয় ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে বিবাদী করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বিবাদীরা হলেন— ১. উজ্জ্বল (৩০), ২. সুমন (২৬), ৩. রোমান (২৫), ৪. সনেট (২৫) ও ৫. তৌকির (২৮), যাদের সবার বাড়ি বড়িকান্দি ও নূরজাহানপুর এলাকায়।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, বিবাদীরা এলাকায় অত্যন্ত উশৃঙ্খল, danggabaj, ডাকাত ও সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত হওয়ায় সাধারণ মানুষ তাদের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পায় না।
এই বিষয়ে নবীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, শ্রীঘর বাজারের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ প্রাপ্তির পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বাজারে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং জড়িত সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
তবে প্রশাসনের আশ্বাসের পরও শ্রীঘর বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং বাজারকে ডাকাত ও অস্ত্রধারীদের মুক্ত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্যের সরাসরি সুদৃষ্টি ও হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

