
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের টিয়ারা এলাকায় গ্রাম্য আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ববিরোধের জের ধরে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৭টা থেকে শুরু করে দুপুর ১২টা পর্যন্ত টানা প্রায় ৫ ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘাত ও রণক্ষেত্রে অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষ চলাকালীন সময়ে টিয়ারা বাজারের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
আহতদের মধ্যে ২ জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এলাকায় গ্রাম্য আধিপত্য ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা নিয়ে টিয়ারা গ্রামের শিশু মিয়া এবং হোসেন মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এই বিরোধের জেরে গত কয়েক দিন ধরেই পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার রাতে পূর্বশত্রুতার জের ধরে স্থানীয় বাছির মেম্বারের বাড়িতে এক পক্ষের হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই দুই পক্ষের ক্ষোভ চরম রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আজ মঙ্গলবার সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উভয় পক্ষের শত শত লোক লাঠিসোঁটা, রামদা, বল্লমসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে টিয়ারা বাজারে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। টানা ৫ ঘণ্টা ধরে চলা এই দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো বাজার এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ প্রশাসন দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুপুর ১২টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। তবে এর আগেই বাজারের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে ক্যাশ বাক্স ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় দাঙ্গাবাজরা।
হোসেন গ্রুপের পক্ষে আহমেদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “সকালে বাজারে আমাদের লোকজনের ওপর শিশু মিয়া গ্রুপের সশস্ত্র লোকজন প্রথমে অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা তখন নিজেদের প্রতিরোধের চেষ্টা করলে তারা বাজারের বেশ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বর্বরোচিত হামলা, ভাঙচুর ও ব্যাপক লুটপাট চালায়।”
অন্যদিকে, সব অভিযোগ অস্বীকার করে শিশু গ্রুপের প্রধান প্রবাসী আতিকুর রহমান শিশু মিয়া বলেন, “হোসেন গ্রুপের লোকজনই আমাদের ওপর প্রথম হামলা চালিয়েছে।
হামলাকারীরা আমাদের এক কর্মীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম ও আহত করেছে। আমরা শুধু নিজেদের জীবন বাঁচাতে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেছি মাত্র।”
সরেজমিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ৫ ঘণ্টার এই তাণ্ডবের পর পুরো টিয়ারা গ্রাম ও বাজার এলাকায় চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। দুই গ্রুপের এমন ভয়াবহ অবস্থানের কারণে সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, “শিশু মিয়াকে এলাকা থেকে শেষ করতে পারলে গ্রামে শান্তি ফিরবে।” আবার অন্য পক্ষের অনেকের মতে, “সাবেক চেয়ারম্যানকে শেষ করতে পারলে গ্রামে স্থায়ী শান্তি আসবে।”
দুই পক্ষের এমন চরম ও উগ্র মনোভাবের কারণে যেকোনো সময় আবারও বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোর্শেদ আলম চৌধুরী বলেন, “বর্তমানে টিয়ারা এলাকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেজন্য এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।” অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

