
সাইমন :
রাজধানীর মিরপুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এক বৃদ্ধা মা নিঃসঙ্গ অবস্থায় নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, মৃত্যুর পর প্রায় সাত দিন তাঁর মরদেহ ফ্ল্যাটের ভেতরেই পড়ে ছিল। দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজখবর না নেওয়ায় মরদেহে পচন ধরে এবং পরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আশপাশের লোকজনের নজরে আসে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই নারীর সন্তানরা দেশের উচ্চশিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব। একজন যুগ্ম সচিব, অন্যজন বুয়েটের শিক্ষক বলে জানা গেছে। এছাড়া তাঁর মেয়ে ও জামাতাও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু এত প্রতিষ্ঠিত সন্তান থাকা সত্ত্বেও বৃদ্ধা মায়ের শেষ জীবন কেটেছে চরম একাকীত্ব ও অবহেলার মধ্যে—এমন অভিযোগ ঘিরে জনমনে ক্ষোভ ও বেদনার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিবেশীদের ভাষ্যমতে, বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরেই একা বসবাস করছিলেন। তাঁর জীবনযাপন ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং অনেক সময় অসুস্থতা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতেও কষ্ট হতো। ঈদুল আযহার আনন্দঘন সময়েও কেউ তাঁর খোঁজ নিয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সামাজিক বিশ্লেষকরা বলছেন, আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, পারিবারিক বন্ধনের দুর্বলতা এবং বৃদ্ধ মা-বাবার প্রতি দায়িত্ববোধের অভাব সমাজে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। এই ঘটনা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং সমাজের জন্যও একটি সতর্কবার্তা।
অনেকেই মনে করছেন, সন্তানদের উচ্চশিক্ষা ও সামাজিক অবস্থান যত বড়ই হোক না কেন, মা-বাবার প্রতি দায়িত্ব ও ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। যাঁরা নিজের জীবনের সবটুকু ত্যাগ করে সন্তানদের মানুষ করেন, তাঁদের শেষ বয়সে একাকীত্ব ও অবহেলার শিকার হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আমাদের সবাইকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে—আমরা কি সত্যিই আমাদের মা-বাবার যথাযথ খোঁজখবর রাখছি? তাঁদের সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছি? তাঁদের প্রয়োজন ও অনুভূতির মূল্য দিচ্ছি?
সমাজের প্রতি বার্তা:
মা-বাবা আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাঁদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও দায়িত্ববোধ শুধু নৈতিক কর্তব্যই নয়, মানবিকতারও অন্যতম প্রধান শিক্ষা। আজ যারা বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াবে, আগামী প্রজন্মও তাদের কাছ থেকেই সেই শিক্ষা গ্রহণ করবে।

