
নিজস্ব প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়াকে বিভাগ ঘোষণার দাবি এখন আর শুধুমাত্র একটি আবেগের বিষয় নয়, বরং এটি দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের ন্যায্য অধিকার ও টেকসই উন্নয়নের যৌক্তিক দাবি হিসেবে সামনে এসেছে। প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা এবং সহজ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে কুষ্টিয়াকে বিভাগ ঘোষণার দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।
ভৌগোলিক অবস্থান ও কৌশলগত গুরুত্বের দিক থেকে কুষ্টিয়া দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে সুপরিচিত। কুষ্টিয়াকে কেন্দ্র করে মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলার অবস্থান হওয়ায় এ অঞ্চলের লাখো মানুষকে প্রশাসনিক কাজের জন্য খুলনা বা ঢাকায় যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ দুটোরই অপচয় ঘটে। কুষ্টিয়া বিভাগ হলে মানুষের দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি অনেকাংশে লাঘব হবে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও কুষ্টিয়া অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল। খাজানগরের বৃহৎ চালের মোকাম দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। পাশাপাশি বিআরবি কেবলস, কিয়াম মেটালসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান এই অঞ্চলের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করেছে। বিভাগীয় মর্যাদা পেলে নতুন শিল্পকারখানা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং সৃষ্টি হবে ব্যাপক কর্মসংস্থান।
যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও কুষ্টিয়ার রয়েছে ঐতিহাসিক গুরুত্ব। ব্রিটিশ আমল থেকেই পোড়াদহ ও ভেড়ামারা রেল জংশন দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। লালন শাহ সেতু ও হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। বিভাগ হলে কুষ্টিয়া আধুনিক ট্রান্সপোর্ট ও বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
শিক্ষা ক্ষেত্রেও কুষ্টিয়া দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এখানে অবস্থিত। এছাড়া কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কুষ্টিয়াকে একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষানগরীতে পরিণত করেছে। বিভাগীয় মর্যাদা পেলে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও কুষ্টিয়া বিভাগের প্রয়োজনীয়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে জটিল রোগের চিকিৎসার জন্য এই অঞ্চলের মানুষকে ঢাকায় বা রাজশাহীতে যেতে হয়। বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হলে উন্নত হাসপাতাল, বিশেষায়িত চিকিৎসা কেন্দ্র ও আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
এছাড়া লালন শাহ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মীর মশাররফ হোসেনের স্মৃতিবিজড়িত কুষ্টিয়া দেশের অন্যতম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। সমৃদ্ধ ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারক এই অঞ্চলকে প্রশাসনিকভাবে আরও শক্তিশালী করা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কুষ্টিয়াকে বিভাগ ঘোষণা করা হলে শুধু একটি জেলার উন্নয়ন নয়, বরং পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সামগ্রিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে। প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে, বাড়বে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তাই কুষ্টিয়াকে বিভাগ ঘোষণার দাবিতে এখন সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

