
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ ‘পুশইন’ এবং অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম রোধে সর্বসাধারণের মাঝে জনসচেতনতা বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
গতকাল রবিবার (২৪ মে) থেকে বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের (সুলতানপুর) উদ্যোগে সীমান্তবর্তী বিভিন্ন গ্রাম ও হাট-বাজারে এই সতর্কতামূলক মাইকিং কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। একই সাথে সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির নিয়মিত টহল ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের ভারত থেকে অবৈধ পুশইন, মানবপাচার ও দালালের মাধ্যমে অবৈধ উপায়ে সীমান্ত পারাপারের মারাত্মক ঝুঁকি ও আইনি প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন করতেই বিজিবির এই মাইকিং কার্যক্রম।
বিজিবির ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস. এম. শরিফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ব্যাটালিয়নের আওতাধীন ও দায়িত্বপূর্ণ প্রতিটি সীমান্ত এলাকায় সংশ্লিষ্ট সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) মাধ্যমে স্থানীয় ভাষায় জনসচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। সীমান্ত নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে স্থানীয় জনগণকে সচেতন ও সহযোগী ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অবৈধ পুশইন, মানবপাচার, মাদক ও পণ্য চোরাচালান প্রতিরোধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির কঠোর অভিযান এবং গোয়েন্দা তৎপরতা দিন-রাত অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা, আখাউড়া ও বিজয়নগর উপজেলার প্রায় ৭৩ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাথে সংযুক্ত। অতীতে বিভিন্ন সময়ে এসব সীমান্ত পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানোর অভিযোগ ওঠে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বিরুদ্ধে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিজিবির এমন সতর্কতামূলক ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সীমান্তবাসী।

