
এস এম দৌলত-বগুড়া :
২০এপ্রিল ২০২৬ তারিখ রাত্রী অনুঃ ১১.০৯ মিঃ ঘটিকার সময়ে ভিক্টিম রিতা মজুমদার (৫০) ও তাঁর স্বামী বিধান মজুমদার রাতের খাওয়া দাওয়া করে তাদের আলাদা রুমে শুয়ে পরে। রাত্রী অনুঃ ১২.১৫ মিঃ একটি শব্দ হয়। ভিক্টিমের স্বামী ঘুম থেকে উঠে খাটের উপরে বসে বোঝার চেষ্টা করে। ০৫ মিঃ পর বিধান মজুমদার এর স্ত্রীর রুম থেকে চিৎকার এর শব্দ শুনতে পায়। তখন ভিক্টিমের স্বামী তাঁর রুম থেকে লাঠি নিয়ে বের হয়। লাঠি নিয়ে বের হয়ে ভিক্টিমের স্বামী তার স্ত্রীর রুমের দিকে যায়। ইং ২১-০৫-২০২৬ তারিখ রাত্রী অনুঃ ০০.২০ মিঃ ঘটিকার সময় গাবতলী থানার সুখানপুকুর ইউনিয়নের মমিনহাটা গ্রামে ভিক্টিম রিতা মজুমদার এর পশ্চিম দুয়ারী কক্ষে গিয়ে ভিক্টিমের স্বামী তাঁর স্ত্রীর রুমের দরজা খোলা পায়। তখন রুমের বৈদ্যুতিক লাইট বন্ধ ছিল। ভিক্টিমের স্বামী গিয়ে রুমের লাইট দেয়। লাইট দিয়ে দেখতে পায়, তাঁর স্ত্রী রিতা মজুমদার মেঝেতে পরে আছে। পুরা মেঝে রক্ত। তাঁর গায়ে রক্ত। গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত কাটা জখম। এক পর্যায়ে ভিক্টিমের স্বামী বাহিরে এসে চিৎকার করতে থাকে। অজ্ঞাতনামা আসামীরা গত ইং ২০-০৫-২০২৬ তারিখ রাত্রী অনুঃ ১১.০৯ মিঃ ঘটিকা হইতে ইং ২১-০৫-২০২৬ তারিখ রাত্রী অনুঃ ০০.৩০ মিঃ ঘটিকার মধ্যে যে কোন সময়ে ভিক্টিমের গলায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে হত্যা করে।
মহিলার গলা কেটে হত্যাকান্ডের ঘটনার পর হতেই বগুড়া জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব মির্জা সায়েম মাহমুদ, পিপিএম মহোদয়ের সার্বিক দিক নির্দেশনায় গাবতলী থানা পুলিশ তথ্য প্রযুক্তি ও গোপন অনুসন্ধান ও তদন্ত শুরু করে। গোপন অনুসন্ধান ও তদন্তে গত ইং ২৪-০৫-২০২৬ তারিখ রাত্রী ১০.৩০মিঃ আসামী মোঃ শাওন মিয়া (২০) পিতাঃ মোঃ ফরিদ প্রাঃ সাং- মমিনহাটা থানাঃ গাবতলী জেলাঃ বগুড়াকে তাঁর নিজ বাড়ী থেকে আটক করা হয়। আসামী শাওনকে জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। সে আরো জানায়, আসামী মোঃ আনোয়ার হোসেন (৩৫) পিতাঃ মোঃ মোকলেছ সাং- মমিনহাটা (পুর্বপাড়া) থানাঃ গাবতলী জেলাঃ বগুড়া সহ তারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আসামী মোঃ আনোয়ার হোসেন (৩৫) পিতাঃ মোঃ মোকলেছ সাং- মমিনহাটা (পুর্বপাড়া) থানাঃ গাবতলী জেলাঃ বগুড়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়ঃ
গ্রেপ্তারকৃত আসামী আনোয়ার ও শাওন এক সাথে এলাকায় কামলা দিয়ে ধান কাটে। সেই সুবাদেই তাদের মধ্যে পরিচয় হয়। অনুঃ ১০ দিন আগে আসামী আনোয়ার শাওনকে বলে যে, ভিক্টিমের বাড়ীতে জমি বিক্রির টাকা আছে। টাকা গুলো কি করে নেয়া যায় সেই পরিকল্পনা করতে থাকে। সেই অনুযায়ী গ্রেপ্তারকৃত আসামী আনোয়ার সুখানপুকুর সৈয়দ আহম্মদ কলেজের বাজার থেকে ০২টি হাসুয়া ৬০০/- টাকা দিয়ে কিনে। গত ইং ২০-০৫-২০২৬ তারিখ রাত্রী অনুঃ ০৮.৩০ দিকে ভিক্টিম রিতা ও তাঁর স্বামী বাড়ীর বাহিরে রাখা ধান ও খড় তোলার জন্য বাহিরে গেলে ঐ সময়ে গ্রেপ্তারকৃত ০১ নং আসামী আনোয়ার ও ০২ নং আসামী শাওন ভিক্টিমের গরুর খাবার রাখার ঘরে মেইন গেট দিয়ে ঢুকে লুকিয়ে থাকে। ভিক্টিম ও তাঁর স্বামী খাওয়া দাওয়া করে ঘুমায়। রাত্রী অনুঃ ১২.১৫ মিঃ দিকে ০২ নং আসামী শাওন ভিক্টিম রিতা মজুমদার এর থাকার ঘরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার শব্দ শুনে রিতা মজুমদার তাঁর ঘর থেকে একটি টর্চ লাইট নিয়ে বের হয়। আসামী আনোয়ারকে ভিক্টিম রিতা মজুমদার চিনতে পারায় আসামী আনোয়ার হাতে থাকা হাসুয়া দিয়ে ভিক্টিম রিতা মজুমদার গলায় কোপ মারে। হাসুয়ার আঘাতের ফলে ভিক্টিম রিতা মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পরে যায়। প্রচুর রক্ত ক্ষরণে ঘরের মেঝেতেই ভিক্টিম রিতা মজুমদার মারা যায়। ঐ সময় ভিক্টিমের গোংরানীর শব্দ শুনে তাঁর স্বামী বিধান মজুমদার চিৎকার দিলে আসামী আনোয়ার ও শাওন ভয়ে দৌড়ে মেইন গেট দিয়ে পালিয়ে যায়। গত ইং ২১-০৫-২০২৬ তারিখ রাত্রী অনুঃ ০১ টার দিকে আসামী আনোয়ার হাসুয়া ০২টি একটি প্লাস্টিকের বস্তায় তাঁর বাড়ীর দক্ষিন পাশে ঘাসের জমিতে রাখে। গত ইং ২৪-০৫-২০২৬ তারিখ রাত্রী অনুঃ ০৮.৩০ দিকে ঘাসের জমি থেকে হাসুয়া নিয়ে বয়ারবাড়ী বিলের মধ্যে কচুরী পানার মধ্যে ফেলে দেয়। গত ইং ২৫-০৫-২০২৬ তারিখ রাত্রী অনুঃ ১২.৩০ দিকে বয়ারবাড়ী বিলে রাখা হাসুয়া ০২টি সাক্ষীদের সামনে উদ্ধারপুর্বক জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আসামী হলেন মোঃ আনোয়ার হোসেন (৩৫) পিতাঃ মোঃ মোকলেছ সাং- মমিনহাটা (পুর্বপাড়া) থানাঃ গাবতলী জেলাঃ বগুড়া। মোঃ শাওন মিয়া (২০) পিতাঃ মোঃ ফরিদ প্রাঃ সাং- মমিনহাটা থানাঃ গাবতলী জেলাঃ বগুড়া।হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত হাসুয়া ০২টি।
০২। হত্যাকান্ডের সময়ে আসামী আনোয়ারের পরিহিত প্যান্টের অংশ ও গেঞ্জি। আসামী আনোয়ারের ব্যবহৃত মোবাইল ও সিম।
০৩। হত্যাকান্ডের সময়ে আসামী শাওন এর পরিহিত কালো রং এর গেঞ্জি ও কালো প্যান্ট । আসামী শাওন এর পুরাতন আইটেল ফোন।

