
মনসুর আলী :
সংগ্রামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবুকে ঘিরে সাম্প্রতিক একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা, নানা অভিযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। এ ঘটনায় চেয়ারম্যানের স্ত্রী ছোট ছেলেকে নিয়ে খা পাড়া স্কুলে ছিলেন সমর্থক ও স্থানীয় একটি অংশের দাবি—ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আগেই একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং তাকে বিতর্কিতভাবে জড়ানোর চেষ্টা করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবু এলাকায় শান্তিপ্রিয় ও আপোষমুখী ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। বিভিন্ন সামাজিক ও পারিবারিক বিরোধে তিনি সমাধানের উদ্যোগ নিয়ে থাকেন বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন। তাদের দাবি, তিনি সাধারণত কোনো সংঘাত বা সহিংস পরিস্থিতিতে জড়াতে চান না এবং বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণভাবে মীমাংসার পক্ষেই অবস্থান নেন।
সাম্প্রতিক ঘটনাকে ঘিরে চেয়ারম্যানপক্ষের দাবি, এক বিবাহিত নারীকে কেন্দ্র করে পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতা তৈরি হলে বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছিল। তারা বলছেন, বিষয়টি পারিবারিকভাবে নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং এ কারণে সংশ্লিষ্টদের নিরাপদ অবস্থান নিশ্চিত করারও চেষ্টা করা হয়।
তবে ঘটনার একপর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে ওই নারীর মৃত্যু ঘটে। স্থানীয়দের একাংশের বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাসার বাহিরে মেয়ের চাচাতো ভাই খোকনের সাথে টাঙ্গাইল ছিলেন। এবং ঘটনার পর দ্রুত উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেসে নেওয়া হয় না হয় হাসপাতালে না হলে চিকিৎসাক তাকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মাধ্যমে চেয়ারম্যানকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ে। চেয়ারম্যানের সমর্থক ও স্থানীয় একটি পক্ষের অভিযোগ, তদন্তের আগেই একটি মহল রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে এবং এর মাধ্যমে তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে।
তারা আরও বলেন, কোনো ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনের আগে একপাক্ষিক প্রচারণা বা অপপ্রচার সমাজে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে। তাই তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা ব্যক্তিগত বিদ্বেষ থেকে দূরে থেকে আইন ও তদন্ত প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহলও মনে করছে, এমন স্পর্শকাতর ঘটনায় আবেগ বা গুজবের ভিত্তিতে নয়, বরং তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন হওয়া জরুরি। তারা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা সামনে আসবে এবং তখনই দায়-দায়িত্ব স্পষ্ট হবে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এ ঘটনায় কাউকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি বা আগেভাগে দোষী সাব্যস্ত না করে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক।

