
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দীর্ঘ পাঁচ দিন হাসপাতালের মর্গে পড়ে থাকার পর অবশেষে খোকন মিয়া (৫০) নামের এক ব্যক্তির লাশ ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দাফন করা হয়েছে। বেঁচে থাকতে পরিবার পাশে না দাঁড়ালেও, মৃত্যুর পর সামাজিক সংগঠন ‘বাতিঘর’-এর উদ্যোগে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
খোকন মিয়া (৫০), পিতা—মৃত আবদুল খালেক। আদি নিবাস লক্ষ্মীপুর হলেও তিনি কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের করুইন গ্রামে বসবাস করতেন।
হাসপাতালে ভর্তি: গুরুতর সংক্রমণ (সেলুলাইটিস) অবস্থায় গত ২৪ মার্চ পুলিশ তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
মৃত্যুর সময়: ৩০ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পৌর এলাকার মেড্ডার ‘বেওয়ারিশদের’ কবরস্থান।
ঘটনার পেছনের নির্মম বাস্তবতা
খোকন মিয়ার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। কিন্তু অসুস্থতাজনিত কারণে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকে পরিবারের কেউ তার পাশে দাঁড়ায়নি।
জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে খোকন মিয়ার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পুলিশ ও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়।
তবে তার পরিবার সাফ জানিয়ে দেয় যে, তারা কোনো ধরনের দায়িত্ব নিতে পারবেন না।
এ বিষয়ে খোকন মিয়ার ছোট ছেলে মো. রানা মিয়া জানান, ‘বাবার সঙ্গে আমাদের অনেক বছর যাবৎ যোগাযোগ নেই। আমরা লাশ গ্রহণ করতে পারব না বলে জানিয়ে দিয়েছি। আমার মাও একই কথা বলেছেন।’
পরিবারের পক্ষ থেকে লাশের দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সামাজিক সংগঠন ‘বাতিঘর’ এগিয়ে আসে। দীর্ঘ ছয় দিন মর্গে পড়ে থাকার পর মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে সংগঠনটি খোকন মিয়ার লাশ দাফন করার উদ্যোগ নেয়।
বাতিঘরের প্রতিষ্ঠাতা মো. আজহার উদ্দিন জানান, ‘পুলিশ ও আমাদের পক্ষ থেকে খোকন মিয়ার পরিবারের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। কিন্তু তারা যেমন চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে রাজি হননি, তেমনিভাবে লাশ নিতেও অপারগতা প্রকাশ করেছেন।’
বেঁচে থাকার লড়াইয়ে হেরে যাওয়া খোকন মিয়ার এই করুণ পরিণতি সমাজে মানবিক মূল্যবোধ ও পারিবারিক দায়িত্ববোধের অভাবকেই যেন আবারও সামনে এনে দাঁড় করাল।

