
মোঃ তরিকুল ইসলাম খান
সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পরামর্শক কমিটির ৪৬তম সভায় ব্যবসায়ীরা দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও ব্যবসায়িক চ্যালেঞ্জ নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। সভায় উঠে আসে—বর্তমান সময়ে একটি স্থিতিশীল ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
ব্যবসায়ীরা বলেন, দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হলে কর ব্যবস্থা সহজ, স্বচ্ছ এবং সহনশীল হওয়া জরুরি। জটিল কর কাঠামো, উচ্চ করহার এবং প্রশাসনিক জটিলতা অনেক ক্ষেত্রে উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা (SMEs) নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছেন, যা ব্যবসা সম্প্রসারণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা আরও উল্লেখ করেন, আমদানি-রপ্তানি খাতে নীতিগত স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। ঘন ঘন নীতিমালা পরিবর্তনের ফলে ব্যবসায়িক পরিকল্পনা দীর্ঘমেয়াদে বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ে। একইসঙ্গে ব্যাংকিং খাতে উচ্চ সুদের হার এবং ঋণপ্রাপ্তির জটিলতা ব্যবসায়ীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ।
এছাড়া, ডিজিটাল কর ব্যবস্থার উন্নয়ন, কর ফাঁকি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং করদাতাদের জন্য সেবার মান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। ব্যবসায়ীরা মনে করেন, করদাতাদের হয়রানি কমিয়ে আস্থা তৈরি করতে পারলে রাজস্ব আদায়ও স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পাবে।
সরকারের প্রতি ব্যবসায়ীদের আহ্বান—নীতিনির্ধারণে তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে একটি সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা। এতে করে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত হবে এবং সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
সবশেষে বলা যায়, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা শুধু ব্যবসায়ীদের জন্য নয়, বরং পুরো দেশের উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য। একটি সুসংগঠিত, স্বচ্ছ এবং স্থিতিশীল নীতিমালার মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
[2:33 PM, 4/30/2026] সিহাব ভাই: শিরোনাম: নৈতিক অবক্ষয় ও সামাজিক শৃঙ্খলার সংকট—আমরা কোন পথে যাচ্ছি?
মোঃ তরিকুল ইসলাম খান
বর্তমান সমাজের কিছু বিচ্ছিন্ন কিন্তু উদ্বেগজনক ঘটনা আমাদেরকে গভীরভাবে ভাবিয়ে তুলছে—আমরা আসলে কোন পথে এগোচ্ছি? শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, যা একটি জাতির নৈতিকতা ও মানবিকতার ভিত্তি গড়ে তোলার প্রধান কেন্দ্র, সেখানে যদি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অশোভন আচরণের ঘটনা ঘটে, তাহলে তা শুধু একটি ব্যক্তিগত বিচ্যুতি নয়; বরং এটি বৃহত্তর সামাজিক সংকটেরই প্রতিফলন।
সম্প্রতি যে ধরনের ঘটনাগুলোর কথা শোনা যাচ্ছে—শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক সম্মান ভেঙে পড়া, ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যায়কে আড়াল করার চেষ্টা, কিংবা সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে অশালীন মন্তব্য—এসবই ইঙ্গিত দেয় যে আমাদের মূল্যবোধের ভিত কোথাও দুর্বল হয়ে পড়ছে। একজন শিক্ষক সমাজের আলোকবর্তিকা; তার প্রতি অসম্মান পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। একইভাবে, কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পরিবারের মাধ্যমে সেটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা আইনের শাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়।
তরুণ সমাজ একটি দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের আচরণে যদি শালীনতা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক সম্মান না থাকে, তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে। আবার তরুণীদের ক্ষেত্রেও সামাজিক দায়িত্ববোধ ও সংযম বজায় রাখা সমান গুরুত্বপূর্ণ। মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকতে হবে, কিন্তু সেটি যেন কখনোই অশালীনতা বা ব্যক্তিগত আক্রমণে রূপ না নেয়—এটা নিশ্চিত করতে হবে।
এক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্র—তিনটি স্তরেই দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য। পরিবারে নৈতিক শিক্ষা, বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ও মূল্যবোধের চর্চা, এবং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও কঠোর আইন প্রয়োগ—এই তিনটি সমন্বিতভাবে কাজ করলেই কেবল পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব। অপরাধ যেই করুক, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে—কোনো প্রভাব বা ক্ষমতার দাপট যেন বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে।
সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, আমাদেরকে সম্মিলিতভাবে একটি সুস্থ, শালীন ও মানবিক সমাজ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিতে হবে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া, সত্যের পক্ষে দাঁড়ানো এবং পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখা—এসব মূল্যবোধই পারে সমাজকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনতে।
শেষ কথা হলো—রাষ্ট্র ও সমাজের কাছে মানুষের একটাই প্রত্যাশা: নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার এবং মর্যাদা। এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে কোনো নাগরিককে অন্যায়ের শিকার হওয়ার ভয় নিয়ে বাঁচতে না

