
সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বিদ্যুতের চরম অব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহক ভোগান্তি নিয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. তৌফিকুল ইসলামকে তীব্র ভাষায় ভর্ৎসনা করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী। বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের ক্রমবর্ধমান অভিযোগের প্রেক্ষিতে তিনি ডিজিএম-এর কাছে এর কারণ ও কৈফিয়ত তলব করেন।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সাধারণ গ্রাহকরা বিদ্যুতের ঘনঘন লোডশেডিং, ভৌতিক বিল এবং সংযোগ পেতে হয়রানির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রীর কাছে অভিযোগের পাহাড় জমা দেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ডিজিএম-এর উদ্দেশ্যে বলেন, “জনগণ কেন বিদ্যুতের সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে? অব্যবস্থাপনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ। এই গাফিলতির দায়ভার আপনাদের নিতে হবে।” তিনি অবিলম্বে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং সেবার মান বৃদ্ধির জন্য কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভার একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী যখন সুনির্দিষ্টভাবে অব্যবস্থাপনার কারণ জানতে চান, তখন ডিজিএম সঠিক উত্তর দিতে হিমশিম খান। প্রতিমন্ত্রীর একের পর এক প্রশ্নে তিনি তোপের মুখে পড়েন এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারিগরি কারণ ব্যাখ্যার চেষ্টা করেন। তবে প্রতিমন্ত্রী সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার আলটিমেটাম দেন।
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থানে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা বিদ্যুতের সমস্যার কথা বললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপের ফলে এখন পরিস্থিতির উন্নতির আশা করছেন তারা।
ডিজিএম মো. তৌফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে জানান, “মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা দ্রুত ত্রুটিসমূহ চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছি। সরবরাহ লাইনে কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও আমরা সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।”
উপজেলার সার্বিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কড়া নজরদারিতে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।

