
মোঃ তারিকুল ইসলাম খান :
জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা-র বক্তব্য চলাকালে ট্রেজারি বেঞ্চের কিছু সদস্যের অশোভন অঙ্গভঙ্গির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রম বা সিরিয়াল বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।
রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এ বিষয়ে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সংসদে অশোভন আচরণের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের সময় ট্রেজারি বেঞ্চের কিছু সম্মানিত সদস্যের অশালীন অঙ্গভঙ্গি আমার বিবেকে আঘাত করেছে। ৪-৫ বার নির্বাচিত সদস্যদের কাছ থেকে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।” তিনি আরও বলেন, সংসদে একটি সুস্থ ও শালীন সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার কথা প্রথম দিন থেকেই বলা হলেও বারবার এমন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি উল্লেখ করেন, সংসদে কথা বলার ক্ষেত্রে স্পিকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হলেও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ বণ্টনে বৈষম্য তৈরি হয়েছে, যা উদ্বেগজনক।
বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে স্পিকার সংসদের সকল সদস্যকে শিষ্টাচার বজায় রাখার এবং কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী আলোচনা পরিচালনার আহ্বান জানান।
এদিকে নতুন সংসদ সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, “সংসদে প্রায় ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন। তারা নিজ নিজ এলাকা ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা বলতে চান। কিন্তু অনেকেই বারবার সুযোগ পেলেও, কেউ কেউ একবারও সুযোগ পাচ্ছেন না।”
তিনি আরও বলেন, যারা আগে নোটিশ দেবেন, তাদের বক্তব্য যেন সিরিয়াল অনুযায়ী অগ্রাধিকার পায়—এমন একটি নিয়ম কিছুদিন অনুসরণ করা হলে নতুন সদস্যদের উৎসাহ বাড়বে এবং সংসদীয় কার্যক্রম আরও প্রাণবন্ত হবে।
সংসদে শালীনতা ও ন্যায্যতার প্রশ্নে এ আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

