
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর সরকারি কলেজে নির্বাচনী পরীক্ষায় (টেস্ট পরীক্ষা) অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পাস করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কলেজের একটি চক্রের বিরুদ্ধে। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পুরো উপজেলা জুড়ে সমালোচনার ঝড় বইছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
জানা গেছে, ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষার্থীদের নির্বাচনী পরীক্ষায় বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার প্রায় সাড়ে চারশ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এদের মধ্যে যারা উত্তীর্ণ হতে পারেনি, তাদেরকে চূড়ান্ত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জনপ্রতি ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় কলেজের একটি অসাধু চক্র।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কলেজের অফিস সহায়ক রাজীব হোসেন ও নৈশপ্রহরী শামীম মিয়া এই চক্রের মূল হোতা। প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তারা কয়েক লক্ষ টাকা আদায় করেছেন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। তবে ফরম পূরণ করতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা যখন ব্যর্থ হয়, তখনই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তোলপাড় শুরু হয়।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক প্রফেসর সাইদুল ইসলাম খান-কে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।
অধ্যাপক সাইদুল ইসলাম খান জানান, “প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। এমন ঘটনা আমাদের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক। ১ এপ্রিলের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।”
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এটিএম রেজাউল করিম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কলেজের ৫৭ বছরের ইতিহাসে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা আগে কখনো ঘটেনি। তদন্তে যার নামই আসুক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা কঠোরতম ব্যবস্থা নেব।”
ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত অফিস সহায়ক রাজীব হোসেন ও নৈশপ্রহরী শামীম মিয়ার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে একটি বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিবেদনে রাজীব হোসেনকে মুঠোফোনে এই অনিয়মের কথা স্বীকার করতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য: এই চক্রের সাথে কলেজের আরও বড় কোনো কর্মকর্তা বা শিক্ষক জড়িত কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকাবাসীর মনে।

