
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
যথাযোগ্য মর্যাদা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে আজ শনিবার শিল্পনগরী খুলনায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উদযাপিত হয়েছে। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় মাসব্যাপী সিয়াম সাধনা শেষে খুলনার ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা সামিল হন ঈদের আনন্দ ও প্রার্থনায়।
দিবসটি উপলক্ষ্যে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সকল সরকারি, আধাসরকারি, বেসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপগুলো বাংলা ও আরবীতে ‘ঈদ মোবারক’ খচিত দৃষ্টিনন্দন ব্যানারে সজ্জিত করা হয়, যা নগরজুড়ে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে দেয়।
খুলনায় ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল আটটায় খুলনা টাউন জামে মসজিদে।মুসল্লিদের আধিক্যের কারণে একই মসজিদে সকাল নয়টায় দ্বিতীয় এবং ১০টায় তৃতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ করেন:নজরুল ইসলাম মঞ্জু, প্রশাসক, খুলনা সিটি কর্পোরেশন।মোঃ মোখতার আহমেদ, বিভাগীয় কমিশনার।
রাজিব আহমেদ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, কেসিসি।আ. স. ম জামশেদ খোন্দকার, জেলা প্রশাসক।
প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে মোনাজাতে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। মোনাজাত পরবর্তী সময়ে মুসল্লিরা একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন মডেল মসজিদ এবং বয়রা মডেল মসজিদে সকাল সাড়ে আটটায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া খালিশপুর জামে মসজিদ এবং বসুপাড়া ইসলামাবাদ জামে মসজিদে সকাল আটটায় জামাত অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে নগরীর ৩১টি ওয়ার্ডে নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পৃথক পৃথক জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নগরীর গুরুত্বপূর্ণ অন্যান্য মসজিদ যেমন— বায়তুন-নুর জামে মসজিদ, ডাকবাংলা জামে মসজিদ, ময়লাপোতা বায়তুল আমান, কুয়েট ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, পিটিআই জামে মসজিদ এবং রূপসা বায়তুশ শরফসহ বিভিন্ন এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন হয়।
ঈদ উপলক্ষ্যে মানবিক দিক বিবেচনায় সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, শিশুসদন, ছোটমনি নিবাস, সেফ হোমস এবং দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ ও উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।দিবসটি উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বেতারের খুলনা কেন্দ্র বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করে এবং স্থানীয় সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে। মহানগরীর পাশাপাশি খুলনার সকল উপজেলাতেও স্থানীয় প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ঈদ উদযাপিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

