
মোঃ সুজা মিয়া-গাইবান্ধা :
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা ও পৌর এলাকা এখন মাদকের অভয়ারণ্যে পরিনত হয়েছে।হাত বাড়ালেই মিলছে মাদক।
গত এক বছরে মাদকের ভয়াবহতা তীব্র থেকে তীব্রতর আকার ধারন করেছে। এসব মাদকের মধ্যে রয়েছে ইয়াবা,ফেনসিডিল,ফায়ারডিল, এস্কাপ,গাজা, প্যাথেডিনসহ বিভিন্ন নেশাজাত দ্রব্য।
গত এক বছরে অনুসন্ধান করে দেখা গেছে এই পেশায় জরিয়ে পরেছে অধিকাংশ তরুন যুবক। সবচেয়ে বেশি স্থান পেয়েছে ইয়াবা ব্যবসা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতার পরিচয়ে পরিচালিত হচ্ছে এই মাদক ব্যবসা।পলাশবাড়ী পৌর শহরের উদয়সাগর, রাইগ্রাম, জামালপুর গৃদারীপুর নুনিয়াগাড়ী,গোয়ালপাড়া,
শিবরামপুর, এছাড়াও মহদীপুর, আসমতপুর,বোর্ডের ঘড়, নতুন বাজার, জুনদহ বাজার,বিটিসি মোড়,ব্র্যাক মোড়,হাসপাতাল মোড়,রাইসমিল মোড়,ছোট শিমুলতলা, থেকে সবচেয়ে বেশি ইয়াবা বিক্রি হতে দেখা গেছে।
সম্প্রতি অভিযান পরিচালনা করে ২/১ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কিন্ত জেল থেকে বেড়িয়ে আবারো তারা বারং বার একই পেশা বেছে নিচ্ছেন এসব মাদক ব্যবসায়ী।পুরো মাদক ব্যবসা কোন একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট পরিচালনা করছে।
অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে গোটা উপজেলার ইয়াবা ঢাকা- চট্টগ্রামের বাসের চালক হেলপারের মাধ্যমে বড় চালান আসে একজন ব্যাক্তির কাছে। সেখান থেকে কয়েক হাত বদল হয়ে আসে মাদক সেবিদের হাতে। ছদ্মবেশে মাদক কিনতে ও সেবন করতে গেলে তারা জানান
কতিপয় পুলিশ সদস্য,র্যাব সদস্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তারা নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে তারা মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন। ফলে বড় কোন কর্মকর্তা অভিযান পরিচালনার আগেই অদৃশ্য সিন্ডিকেট পুরো মাদক ব্যবসার সুইচ অফ করে দেন।এতে করে ধরা ছোয়ার বাইরে চলে যায় বড় বড় রাঘব বোয়াল।
মাদক সেবনের তালিকায় রয়েছে প্রথম সারির বেশ কিছু রাজনীতিবিদ,জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক,কতিপয় সাংবাদিক, ডাক্তার, সরকারি কর্মকর্তা,ব্যবসায়ী,এনজিও কর্মী পাশাপাশি রয়েছে ধর্নাঢ্য পরিবারের সন্তান,স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র ছাত্রী। এমনকি নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া শ্রমিকরা ও এই নেশায় আশক্ত হয়ে পরেছে।
মাদক ব্যবসায়ীরা অভিনব কৌশল অবলম্বন করে, মোবাইলে ফোন রেকর্ড চালু, কিংবা সিসি টিভি ফুটেজ এরিয়ার মধ্যে মাদক বিক্রি করে সেবনকারীদের ব্লাকমেইল করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়াসহ মাদক কিনতে বাধ্য করার মত ঘটনা ওঠে এসেছে এই অনুসন্ধানে এছাড়াও ম্যাসেন্জার হোয়াটসঅ্যাপ এর স্কীন সর্ট ব্যবহার করে মাদক ক্রয়ে বাধ্য করা হচ্ছে বলে
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান।
উপজেলা সদরের কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের আসমত গ্রামে মিন্টু,,মুছা,রাইগ্রাম ছেলিম ড্রাইভারের বউসহ বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীর কাছে ছদ্মবেশে মাদক কিনতে গিয়ে ঘটনার শতভাগ সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়।সেখান থেকে ওঠে আসে প্রায় অর্ধশতাধিক মাদক ব্যবসায়ীর নাম ও পরিচয়।এরা অধিকাংশ তরুন যুবক।
শুধু কিশোরগাড়ী ইউনিয়ন নয় সব চেয়ে বেশি মাদকের ভয়াল থাবা পরেছে পলাশবাড়ী পৌর শহরের কালীবাড়ি বাজার এলাকায়। সন্ধা হলেই ইয়াবা ও গাজার ধোয়ায় গোটা এলাকার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠছে।ফলে অভিভাবক মহল তাদের স্কুল কলেজ পড়ুয়া সন্তানদের নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেছে।কিছুতেই যেন থামছে না এই মাদক ব্যবসা।
সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিভিন্ন জনসভায় পলাশবাড়ী সাদুল্লাপুর এলাকাকে মাদক মুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন গাইবান্ধা ০৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা সৈয়দ মঈনুল হাসান সাদিক ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবুল কাওছার মো নজরুল ইসলাম লেবু মাওলানা। তাদের বক্তব্যে অভিভাবক মহলসহ সচেতন নাগরিকদের মাঝে অনেকটা আশার আলো ছড়িয়েছে।
তারা মাদক ব্যবসা বন্ধে প্রশাসনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

