
মাসুম বিল্লাহ-খুলনা :
খুলনার অবহেলিত জনপদ এবং মৃতপ্রায় শিল্পাঞ্চলকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় গুরুত্বপূর্ণ কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান। আজ সোমবার সকাল ১১টায় খালিশপুর প্রভাতী স্কুল মাঠে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি খুলনার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে একাধিক ডিজিটাল ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির প্রতিশ্রুতি দেন।

দীর্ঘ ২২ বছর পর তারেক রহমানের খুলনায় আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ঢল নামে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা। তারেক রহমান মঞ্চে খুলনার ছয়টি আসনের ‘ধানের শীষ’ প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান। প্রার্থীরা হলেন,খুলনা-১: আমির এজাজ খান,খুলনা-২: নজরুল ইসলাম মঞ্জু,খুলনা-৩: রকিবুল ইসলাম বকুল,খুলনা-৪: আজিজুল বারী হেলাল,খুলনা-৫: মনিরুল হাসান বাপ্পী,খুলনা-৬: আলী আজগর লবি
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের এক নেতার সাম্প্রতিক নারী কর্মসংস্থান বিষয়ক কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “একটি রাজনৈতিক দলের নেতা নারীদের কর্মসংস্থান নিয়ে কলঙ্কজনক মন্তব্য করেছেন। দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী সমাজকে যারা অসম্মান করে এবং কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালি দেয়, তারা আর যাই হোক দেশদরদী বা জনদরদী হতে পারে না।”
ধর্মের অপব্যাখ্যার জবাবে তিনি বলেন, “তারা বলে ইসলাম কায়েম করবে, অথচ আমাদের নবী (সা.)-এর স্ত্রী বিবি খাদিজা (রা.) নিজেও একজন ব্যবসায়ী ও কর্মজীবী নারী ছিলেন। এই দলটির পূর্বসূরীরা ১৯৭১ সালেও মা-বোনদের অসম্মানিত করেছিল। এদের কাছে দেশের মানুষ বা নারী সমাজ কখনোই নিরাপদ হতে পারে না।”
খালিশপুরের শিল্পাঞ্চল সম্পর্কে তিনি বলেন, বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। এছাড়া খুলনায় একটি অত্যাধুনিক আইটি পার্ক স্থাপনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, “মৃতপ্রায় শিল্প নগরীকে আধুনিক ও জীবন্ত শিল্প নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে।”
সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে তারেক রহমান দুটি যুগান্তকারী কার্ডের পরিকল্পনা তুলে ধরেন:
*ফ্যামিলি কার্ড: দেশের প্রায় ৪ কোটি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। পরিবারের নারী প্রধানের নামে এটি ইস্যু করা হবে, যার মাধ্যমে প্রতি মাসে নগদ অর্থ বা নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হবে।
*কৃষি কার্ড: কৃষকদের সার, বীজ ও কীটনাশক সরকারি ন্যায্যমূল্যে সরবরাহ এবং সহজ শর্তে কৃষি ঋণের নিশ্চয়তা দিতে এই ডিজিটাল কার্ড প্রবর্তন করা হবে।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সাথে তুলনা করেন। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালে যেভাবে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করে স্বাধীনতা অর্জন করেছিল, ঠিক তেমনি ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে সেই স্বাধীনতা আবার রক্ষা করা হয়েছে।”
বক্তব্যের শেষে তিনি তার জনপ্রিয় স্লোগান— “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” দিয়ে খুলনাবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। জনসভায় খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপি, যুবদল,ছাত্রদল,সেচ্চাসেবক দল,কৃষক দল,তাতী দল,মহিলা দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও হাজার হাজার সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

