
নিজস্ব প্রতিনিধি :
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার বিভিন্ন অপচেষ্টা চলছে বলে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, দেশের আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে কঠোর জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রাখা জরুরি। পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার ইতোমধ্যেই সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অস্ত্রধারী শক্তির বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে।
সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সূত্র জানায়, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরপরই সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে মাঠপর্যায়ে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা ইউনিট যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করছে। বিশেষ করে সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে রুটিন টহল, আকস্মিক চেকপোস্ট এবং ব্লক রেইডের মাধ্যমে সম্ভাব্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন করা হচ্ছে।
এছাড়া পুলিশ প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে কঠোর নির্দেশনা—প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে কোথাও গাফিলতি বা দুর্বলতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও পৌঁছে গেছে মাঠপর্যায়ে। প্রশাসনের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, নির্বাচনের সময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেন কোনভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সে জন্য শীর্ষ পর্যায় থেকে সরাসরি মনিটরিং চলছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, দেশে যেসব অস্থিতিশীল গোষ্ঠী নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের দমন করতে এই জিরো টলারেন্স নীতি অত্যন্ত কার্যকর হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং সন্ত্রাসী চক্র ভেঙে দিতে এখনই সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে অভিযান চালানো প্রয়োজন, যাতে জনগণ নিশ্চিন্তে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারে।
সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, নাশকতা কিংবা অবৈধ অস্ত্র—যে কোন অপরাধেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলা হয়েছে, “দেশকে অস্থিতিশীল করার যে কোন পাঁয়তারা রুখে দিতে হবে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে।”
দেশজুড়ে এই বিশেষ অভিযান চলমান থাকায় সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও স্বস্তির অনুভূতি দেখা যাচ্ছে। জনগণ আশা করছে, সন্ত্রাস ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে এই কঠোর অবস্থান নির্বাচনী পরিবেশকে আরও স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য করে তুলবে।

