
নিজস্ব প্রতিনিধি :
ময়মনসিংহ-৮, ঈশ্বরগঞ্জ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদকে ঘিরে এলাকায় আলোচনা–সমালোচনা ও চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
১৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত দৈনিক জনজাগরণ-এর একটি অনুসন্ধানমূলক প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, রাজনৈতিক অনিয়ম এবং অতীত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদন সামনে আসার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
প্রতিবেদনে যেসব অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে—
লুৎফুল্লাহেল মাজেদ অতীতে ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল—এমন দাবি প্রতিবেদনে ওঠে।
কিছু ছবিতে তাকে আওয়ামী লীগ রাজনীতির বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত ও ঘনিষ্ঠ পরিবেশে দেখা গেছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদন আরও দাবি করে, ২০১৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন সংগ্রহের চেষ্টা করেছিলেন, এবং ২০১০ সালে জাতীয় পার্টির জেলার ১৭ নম্বর সদস্য ছিলেন—যা এখনও বহাল আছে বলে স্থানীয়দের অংশ দাবি করেছে।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের ক্ষোভ
ঈশ্বরগঞ্জে বহু সিনিয়র ও সাবেক এমপি থাকলেও কেন তাকে মনোনয়ন দেওয়া হলো—এ নিয়ে জেলা ও উপজেলা বিএনপির একাংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, কয়েকজন প্রভাবশালী বিএনপি নেতা দলীয় কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগও দাখিল করেছেন, যাতে তার মনোনয়ন বাতিলের দাবি তোলা হয়েছে।
দুর্নীতি সংক্রান্ত অতিরিক্ত অভিযোগ
জনজাগরণ–এর প্রতিবেদনটি দাবি করে—
২০২৫ সালে বাংলাদেশ বিমান ও পর্যটন খাতে অনিয়মের অভিযোগে লুৎফুল্লাহেল মাজেদ ও সাবেক উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকীর নাম বিভিন্ন অনুসন্ধানে আসে।
দুদকের একটি মামলায় তাদের নাম উল্লেখ আছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। দেশের শীর্ষ কয়েকটি গণমাধ্যম—যেমন দৈনিক প্রথম আলো, আমার দেশ, বাংলাদেশ প্রতিদিন, দৈনিক ইত্তেফাক—বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দলীয় সিদ্ধান্ত নিয়ে জনমত
এখন এলাকাজুড়ে প্রশ্ন—
বিএনপি কি অভিযোগের মুখে লুৎফুল্লাহেল মাজেদকে প্রার্থী হিসেবে বহাল রাখবে, নাকি পরিবর্তন করবে?
ময়মনসিংহ জেলা ও ঈশ্বরগঞ্জ বিএনপির একাংশের দাবি—
দল যেন দ্রুতই মনোনয়ন পুনর্বিবেচনা করে, একজন সৎ, গ্রহণযোগ্য ও পরীক্ষিত ব্যক্তিকে এই আসনে মনোনীত করে মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনে।
উপসংহার
দৈনিক জনজাগরণ জানিয়েছে—তাদের প্রতিবেদনের সব তথ্য নথি, সূত্র ও প্রকাশিত কাগজপত্রের ভিত্তিতে সাজানো, ফলে “ভুল বা অসত্য তথ্যের সুযোগ নেই” বলে তারা দাবি করেছে।

