
রায়হান শেখ-বিশেষ প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের চিতলমারীতে ভুক্তভোগী গৃহবধূ শ্রাবণী হীরার বদনা, নাকফুল ও আংটি ফেরত দিয়েছে ডাম ফাউন্ডেশন ফর ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট (ডিএফইডি)। ঘটনাটির পর প্রতিষ্ঠানের চিতলমারী শাখার ব্যবস্থাপক বাসুদেব দেবনাথ ও মাঠকর্মী নেওয়াজ শরীফকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডিএফইডির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার সাহিদুল কবীর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।
মঙ্গলবার সকালে এনজিওটির কর্মকর্তারা শ্রাবণী হীরার বাড়িতে গিয়ে তাঁর খোঁজখবর নেন এবং পরে তাঁকে অফিসে নিয়ে বদনা, নাকফুল, আংটি ও দুটি ফাঁকা স্ট্যাম্প ফেরত দেন।
গৃহবধূ শ্রাবণী হীরা বলেন, “বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশের পর সকাল ১০টার দিকে এনজিওর কয়েকজন কর্মকর্তা আমার বাড়িতে আসেন। তাঁরা আমার শিশুকন্যাসহ আমাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। পরে অফিসে নিয়ে আমার বদনা, নাকফুল, আংটি ও ফাঁকা স্ট্যাম্প ফেরত দেন। তাঁদের ব্যবহারে আমি খুশি এবং সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”
ডিএফইডির নরসিংদী জোনাল ম্যানেজার তৌহিদুল ইসলাম বলেন,“প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে আমি, বরিশালের জোনাল ম্যানেজার মো. মহসিন হোসাইন ও বাগেরহাটের এরিয়া ম্যানেজার মো. কবির হোসেন শ্রাবণীর বাড়িতে যাই। তাঁর মালামাল ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিজের সুবিধামতো কিস্তি পরিশোধ করবেন।”
তিনি জানান, “ঘটনাটির তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
তৌহিদুল ইসলাম আরও দাবি করেন, কোনো জোর প্রয়োগ ছাড়াই গৃহবধূ শ্রাবণী হীরা স্বেচ্ছায় কিস্তির টাকা পরিশোধের পরিবর্তে ওই মালামাল দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে ৯ হাজার ৫০০ টাকা জমা দিয়ে তিনি নিজের মালামাল ফেরত নেন।
উল্লেখ্য, চিতলমারী শাখা থেকে শ্রাবণী হীরা ৫০ হাজার টাকা ঋণ নেন। স্বামী রিপন রায় কাজের জন্য এলাকা ছাড়ার পর কয়েকটি কিস্তি বাকি থাকায় গত ২৯ অক্টোবর এনজিওর কর্মীরা তাঁকে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাঁকে দিয়ে দুটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে হাতের আংটি, নাকফুল ও পিতলের বদনা নিয়ে নেন।

