
কবির হোসেন রাকিব-রামগতি (লক্ষ্মীপুর) :
রামগতি উপজেলার বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ ইউনিয়ন চর আবদুল্যাহ। এখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বাস। এই দ্বীপে যেতে হয় মেঘনা নদী হয়ে প্রায় ২৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে। নৌকা বা ট্রলারে যেতে সময় লাগে প্রায় ২ ঘণ্টা। ইউনিয়নের ১০ হাজার মানুষের জন্য কোনো চিকিৎসক নেই। চরে নেই কোনো ‘উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিট ক্লিনিক। ইউনিয়নে দুজন স্বাস্থ্য সহকারী কর্মরত থাকলেও তারা সেখানে স্থায়ীভাবে থাকেন না, মাঝেমধ্যে গিয়ে সেবা দিয়ে আসেন। ফলে চিকিৎসার ক্ষেত্রে স্থানীয়দের ভরসা ফার্মেসির তথাকথিত পল্লি চিকিৎক। ফার্মেসির দোকানদারের দেওয়া ওষুধ খেয়ে উল্টো অসুখে পড়ছেন মানুষ। বিশেষ করে প্রসূতি নারীরা আছেন বড় বিপদে। চিকিৎসক না থাকায় ধাত্রীরাই সন্তান প্রসব করান। জটিলতা হলে নিতে হয় উপজেলা সদরে। কিন্তু দ্রুত সদর হাসপাতালে যাওয়ারও উপায় নেই। কারণ প্রতিদিন সকাল ৬টায় উপজেলা সদরের সেন্টার খালঘাট থেকে একটি নৌকা আসে, ফিরে যায় সকাল সাড়ে
রামগতির চর আবদুল্যাহ
ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের সুবিধা পান না দ্বীপবাসী
দুজন স্বাস্থ্যকর্মী থাকলেও দেখা মেলে কালেভদ্রে
১১টায়। বাকি সময় সদরে যাওয়ার কোনো উপায় থাকে না। উপজেলা প্রশাসন দ্বীপবাসীর চিকিৎসার জন্য সরকারি বরাদ্দে একটি ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্স কিনলেও সেটার সুবিধা পান না স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শিহাব হাসান চৌধুরী বলেন, ‘চর আবদুল্যাহ ইউনিয়নে দুজন স্বাস্থ্যকর্মী কর্মরত থাকলেও তারা সেখানে নিয়মিত যান না। তারা ওই চরে স্থায়ীভাবে থাকার কথা থাকলেও থাকেন চর আলেকজান্ডারে। মাঝেমধ্যে গিয়ে সেবা দিয়ে
আবার চলে আসেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
চর আবদুল্যাহ ইউনিয়নের মোট জনসংখ্যা ৯ হাজার ৩৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪ হাজার ৯৪২ এবং মহিলা ৪ হাজার ৪৪৭ জন।
সরেজমিন দেখা গেছে, পুরো চরে বাজার রয়েছে তিনটি। এর মধ্যে জনতা বাজারে ওষুধের দোকান রয়েছে তিনটি, চেয়ারম্যান বাজারে চারটি। তবে কামাল বাজারে কোনো ওষুধের দোকান নেই। ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে মুদি ও চায়ের দোকানেও পাওয়া যায় নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ।
স্থানীয় রিয়াজ হোসেন, মো. মিলাদ ও রায়হান বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে কিংবা অসুস্থ রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিতে হলে নৌকা ভাড়া করতে হয়। ভাড়া লাগে ৩-৪ হাজার টাকা। ফলে অনেকে চিকিৎসা পান না। সরকারি বরাদ্দে কেনা ওয়াটার অ্যাম্বুলেন্সের কোনো সেবা পাই না।’
ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বাজারের বাসিন্দা

