
জহুরুল ইসলাম জপি-শেরপুর :
“শিক্ষকসমাজকে আর অবহেলা নয়, তাদের মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে”—এমন প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি, শেরপুর জেলা শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন-২০২৫।
শনিবার, ২৬ জুলাই সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শেরপুর শহরের ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দ কুমার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে শিক্ষক সমিতির আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন।
প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দের বক্তব্য সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম মিয়া, চেয়ারম্যান, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট এবং সাংগঠনিক সম্পাদক, বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি।
তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও শিক্ষকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমরা বিশ্বাস করি, একটি জাতিকে উন্নত করতে হলে শিক্ষকসমাজের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
মোঃ জাকির হোসেন, মহাসচিব, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি
এ কে এম আব্দুল আওয়াল, প্রেসিডিয়াম সদস্য, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি।
আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট মোঃ সিরাজুল ইসলাম, আহ্বায়ক, শেরপুর জেলা বিএনপি
অধ্যক্ষ মোঃ মামুনুর রশীদ পলাশ, সদস্য সচিব, শেরপুর জেলা বিএনপি
ডাঃ সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, যুগ্ম আহ্বায়ক, শেরপুর জেলা বিএনপি
আলহাজ্ব মোঃ হযরত আলী, সাবেক আহ্বায়ক, শেরপুর জেলা বিএনপি
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন মোঃ মহসীন আলী আকন্দ, আহ্বায়ক, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি শেরপুর জেলা শাখা।
সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মোঃ আজহার আলী, সদস্য সচিব, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি শেরপুর জেলা শাখা।
বক্তব্যে উঠে আসে শিক্ষক সমাজের বাস্তবতা সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশে আজ শিক্ষকরা নিদারুণ অবহেলার শিকার। দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতি ও বেতন বৈষম্য নিরসন না হওয়ায় শিক্ষক সমাজে হতাশা বিরাজ করছে। অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকরা নিয়মিত বেতন পাচ্ছেন না।
এছাড়া কলেজপর্যায়ে নানা অনিয়ম, প্রশ্নফাঁস, পরীক্ষা বাণিজ্যসহ নানা দুর্নীতির চিত্রও উঠে আসে বক্তৃতায়। বক্তারা অভিযোগ করেন, “আওয়ামী লীগের আমলে বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের ইচ্ছাকৃতভাবে ফেল করিয়ে অর্থের বিনিময়ে তাদের আবারো পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হতো। এ ধরনের দুর্নীতি শিক্ষার মানকে ধ্বংস করছে।”
সম্মেলনে শিক্ষক নেতৃবৃন্দ কয়েকটি দাবি উত্থাপন করেন:
সকল স্তরের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বৈষম্য নিরসন
বেসরকারি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তকরণে স্বচ্ছতা
অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা তারা বলেন, সময় এসেছে শিক্ষক সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে নিজেদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার হওয়ার।
সম্মেলনের মাধ্যমে শুধু নেতৃত্বের হস্তান্তর নয়, বরং শিক্ষকদের সম্মান ও অধিকারের প্রশ্নে এক নতুন জাগরণের সূচনা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন আয়োজকরা।
সবার কণ্ঠে ছিল একটাই বার্তা”শিক্ষকের সম্মান জাতির সম্মান, আর তা রক্ষায় আমরা একতাবদ্ধ।”

