
ঢাকা, ১৪ জুলাই: ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট, সিআইডি শ্রী হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস (তৌহিদ ইসলাম) এর বিরুদ্ধে ৯.৩৫ কোটি টাকার মানিলন্ডারিং মামলা দায়ের করেছে। অভিযুক্তের বৈধ কোনো আয়ের উৎস না থাকা সত্ত্বেও তার বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে বিপুল অর্থ জমা এবং উত্তোলনের সন্দেহজনক লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানার মধ্য রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা শ্রী গোপীনাথ তরনীদাসের ছেলে হরিদাস চন্দ্র তরনীদাস ২০০৬ সালে হাসবাড়ী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০০৮ সালে ঢাকা ক্যাম্ব্রিয়ান কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। ২০১০ সালে অবৈধভাবে ভারতে গমন করে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে দেশে ফেরেন বলে জানা যায়। ২০১৯ সালে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তৌহিদ ইসলাম নাম ধারণ করেন।
সিআইডি সূত্র জানায়, অভিযুক্ত বিভিন্ন সময়ে নিজেকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এডিট করা ছবি এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নামে সেভ করা ভুয়া ফোন কল দেখাতেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি, বদলি, হুন্ডি ও সংঘবদ্ধ অপরাধের অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে দেখা যায়, তার অ্যাকাউন্টগুলোতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে বিপুল অর্থ জমা হয়েছে, যা তার কোনো পেশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। প্রায় সমপরিমাণ টাকা তিনি উত্তোলনও করেছেন।
এর আগে বনানী থানায় তার বিরুদ্ধে মামলা নং-১৬(১১)২২ (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৪ ধারাসহ পেনাল কোডের বিভিন্ন ধারায়) রুজু হয়েছে। সর্বশেষ উত্তরা পশ্চিম থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫) এর ৪(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্তের দেশী-বিদেশী মুদ্রা পাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার বিভিন্ন ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
বিস্তারিত তদন্ত চলছে।

