
নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া :
কুষ্টিয়ার গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম সৈয়দ মেহেদী রুমি সেতুতে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি আবারও টোল আদায় শুরু হয়েছে। তবে আগের তুলনায় অধিক হারে টোল নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিভিন্ন পরিবহনের চালকরা। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের আগের সপ্তাহ থেকে হঠাৎ করেই টোল আদায় শুরু হওয়ায় স্থানীয় পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
সেতু ব্যবহারকারী কয়েকজন বাস ও ট্রাকচালকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে স্লিপের মাধ্যমে টোল পরিশোধ করলে বাসপ্রতি ১২০ টাকা এবং স্লিপ ছাড়া ৯০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। চালকদের দাবি, পূর্বে যে হারে টোল নেওয়া হতো, বর্তমানে তার চেয়ে অনেক বেশি টাকা আদায় করা হচ্ছে।
একজন ট্রাকচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “দীর্ঘদিন টোল বন্ধ ছিল। হঠাৎ করে আবার টোল নেওয়া শুরু হয়েছে। এখন আগের চেয়ে বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। এতে পরিবহন ব্যয় বাড়ছে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপরই পড়বে।”
আরেকজন বাসচালক অভিযোগ করে বলেন, “টোল আদায়কারীদের আচরণ অনেক সময় অমার্জিত থাকে। টোল নিয়ে প্রশ্ন করলেই তারা উত্তেজিত হয়ে ওঠে। মাঝেমধ্যে চালকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে।”
স্থানীয় পরিবহন শ্রমিকদের অভিযোগ, টোল আদায়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তারা টোল আদায়ের বৈধতা, নির্ধারিত হার এবং আদায়কৃত অর্থের ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে চালক ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেতুতে টোল আদায়ের বিষয়ে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধি এবং যাত্রী ও চালকদের সঙ্গে শালীন আচরণ নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুতে টোল আদায়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, নিয়মতান্ত্রিকতা এবং সেবাগ্রহীতাদের প্রতি সম্মানজনক আচরণ নিশ্চিত করা হলে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে।
(বিঃদ্রঃ প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগসমূহ সংশ্লিষ্ট চালকদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।)

