
মুসলিম উদ্দীন-মিরসরাই, চট্টগ্রাম :
মুক্তিযুদ্ধের সাব-সেক্টর কমান্ডার হিসেবে রণাঙ্গনে একের পর এক বীরত্বপূর্ণ অপারেশন পরিচালনায় সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। খুব কম সংখ্যক এমপি সম্মুখসমরে ছিলেন। স্থানীয় এমপি রণাঙ্গনের সম্মুখযোদ্ধা হওয়ার সুবাদে স্বভাবতই মিরসরাইতে এককভাবে উপজেলা ভিত্তিক সর্বোচ্চ সংখ্যক লোক মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।
শুভপুর ব্রীজ, অচিমিয়ার ব্রীজ উড়িয়ে পাক বাহিনীর মনে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবং তার সহযোদ্ধারা। ফলশ্রুতিতে ডিসেম্বরের শুরু থেকে মিরসরাই শত্রু মুক্ত হতে শুরু করলেও পুরোপুরি শত্রু মুক্ত হয়নি।
ঐতিহাসিক ৮ ই ডিসেম্বর পাকসেনারা মিরসরাইয়ের ওয়্যারলেস ভবন ধবংস করে থানায় ঘাঁটি করছে খবর পেয়ে চারিদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা সংগঠিত হয়ে হানদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে। এতে হানাদাররা পরাস্ত হয়ে চট্টগ্রাম শহরে দিকে পালিয়ে যায়। চারদিক থেকে জয়বাংলা শ্লোগান নিয়ে মুক্তকামী জনতার জোয়ার মিরসরাই উচ্চবিদ্যালয় মাঠে মিলিত হয়।
মৌলভী শেখ আহাম্মদ নামের এক আলেম কোরআন তেলাওয়াত করেন। পরে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে ছাত্রনেতা ও মুক্তিযোদ্ধারা মিরসরাই উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পতাকা উত্তোলনের সময় উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধকালীন চট্টগ্রাম এক নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, বিএলএফ কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম জাফর উদ্দীন আহাম্মদ চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এএফএম নিজাম উদ্দীন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নিজাম উদ্দীন (শিক্ষক মলিয়াইশ উচ্চবিদ্যালয়), বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবু তাহের (সাবেক চেয়ারম্যান মিঠানালা ইউনিয়ন) ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সফি উল্যা প্রকাশ গেরিলা শফিসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা জনতা। জয়বাংলা শ্লোগানে মুখরিত করে তখন আনুষ্ঠানিকভাবে ৮ ই ডিসেম্বর হানাদার মুক্ত ঘোষণা করা হয়।
চট্টগ্রাম অঞ্চলে মিরসরাই সর্বপ্রথম শত্রুমুক্ত হয়।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এর জের ধরে গত বছর থেকে হানাদার মুক্ত দিবস উদযাপিত হচ্ছে না মিরসরাইতে! এটি নিজের পরিচয় ভুলে যাওয়ার মত দুঃখজনক ব্যাপার।
আমাদের শিশুদের,শিক্ষার্থীদের আমাদের ঐতিহাসিক গৌরবগাঁথা সম্পর্কে জানাতে হবে। না হয় হীনমন্য,আত্মপরিচয়হীন একটা প্রজন্ম গড়ে উঠবে পরে তারা আমাদের ক্ষমা করবে না।

