
মোঃ ওয়াহেদ আলী :
সরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির নতুন নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কোটাসহ বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে নতুন এ নীতিমালায়। সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অ্যান্ট্রি (প্রবেশ) শ্রেণিতে এবং আসন শূন্য থাকা সাপেক্ষে নবম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা যাবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে সচিব রেহেনা পারভীন স্বাক্ষরিত এ নীতিমালা প্রকাশ করা হয়।
‘জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০’ অনুযায়ী ৬ বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। তবে কাঙ্ক্ষিত শিক্ষাবর্ষের ১ জানুয়ারি তারিখে শিক্ষার্থীর সর্বনিম্ন বয়স ৫ বছর এবং ৩১ ডিসেম্বর তারিখে সর্বোচ্চ ৭ বছর পর্যন্ত হবে। যেমন: ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিকালে কোনও শিক্ষার্থীর বয়সসীমা সর্বনিম্ন ৫ বছর হবে অর্থাৎ, সর্বনিম্ন জন্ম তারিখ হবে ১ জানুয়ারি ২০২১ পর্যন্ত। সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৭ বছর পর্যন্ত অর্থাৎ, জন্ম তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত।
পরবর্তী শ্রেণিগুলোতে বয়স নির্ধারণের বিষয়টি প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে প্রযোজ্য হবে। শিক্ষার্থীর বয়স নির্ধারণের জন্য ভর্তির আবেদন ফরমের সঙ্গে অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের বয়স নির্ধারণে সর্বোচ্চ ৫ বছরের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া যাবে।
এ ছাড়া, নীতিমালা অনুযায়ী, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষ হবে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রতি শ্রেণির শাখায় শিক্ষার্থী সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ ৫৫ জন।
কার জন্য কত শতাংশ কোটা
ক্যাচমেন্ট এরিয়ার জন্য ৪০ শতাংশ কোটা এবারও বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া গতবারের মতো এবারও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ আর বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২ শতাংশ কোটা রয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের ১ শতাংশ কোটা রাখা হয়েছে। তবে এবার কোটা বণ্টনের ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ০.৫ শতাংশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ০.৫ শতাংশ পৃথক করে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া যমজ ও সহোদর কোটার ক্ষেত্রেও কিছুটা পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিগত বছর যমজ কোটা ছিল ৩ শতাংশ। এটি এবার কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে। আর সহোদর কোটা বাড়িয়ে ৩ শতাংশ করা হয়েছে। আগে সহোদর কোটা ছিল ২ শতাংশ। তবে জমজ ও সহোদর কোটার জন্য এক দম্পতির সর্বোচ্চ তিন সন্তান পর্যন্ত এটি কার্যকর থাকবে।
অন্যদিকে, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন অবশ্যই বরাদ্দ রাখতে হবে।
মাউশির মাধ্যমিক বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরের কর্মীদের জন্য রাখা কোটা খুবই কম হলেও এটি প্রয়োজনীয় নয়। আর ক্যাচমেন্ট এরিয়া নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগ সত্য বলে তথ্য রয়েছে, তাই কঠোরভাবে নিয়ম মানলে এ কোটার নেতিবাচক দিক কমে আসবে।
ঢাকা মহানগরে ক্যাচমেন্ট এরিয়া অপরিবর্তিত
ঢাকার ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল এবারও তিন ভাগে বিভক্ত থাকবে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের প্রধান সর্বোচ্চ তিনটি সংলগ্ন থানা ক্যাচমেন্ট এরিয়া হিসেবে নির্ধারণ করতে পারবেন। ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
বিভিন্ন কোটা
-
ক্যাচমেন্ট কোটা: ৪০%
-
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান: ৫%
-
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন: ২%
-
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর–সংস্থার সন্তান: মোট ১% (মন্ত্রণালয়–০.৫%, অধীন দপ্তর–০.৫%)
-
যমজ কোটা: ৩% থেকে কমে ২%
-
সহোদর কোটা: ২% থেকে বেড়ে ৩%
(এই দুই কোটা সর্বোচ্চ তিন সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য)
এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণিতে ১০% আসন সংরক্ষিত থাকবে।
ভর্তি কমিটি
ঢাকায় মাউশির মহাপরিচালক, জেলায় জেলা প্রশাসক এবং উপজেলায় ইউএনওর নেতৃত্বে ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সম্ভাব্য সময়সূচি
মাউশির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
-
বিজ্ঞপ্তি: ১৯ নভেম্বরের মধ্যে
-
আবেদন শুরু: ২১ নভেম্বর
-
আবেদন শেষ: ৭ ডিসেম্বর
-
ডিজিটাল লটারি: ১৪ ডিসেম্বর
-
ভর্তি: ১৭–২১ ডিসেম্বর

