
মনিরুজ্জামান মনির :
মৌলভীবাজারের শমশেরনগর সড়ক আজ (৯ আগস্ট ২০২৫) রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনায় থমথমে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও এফ রহমান ট্রেডিং-এর স্বত্বাধিকারী শাহ ফয়জুর রহমান রুবেলের নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে শতাধিক ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দা চৌমুহনা সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন ও গণমিছিল বের করেছেন। হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের দাবিতে ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত সমস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়, পাশাপাশি প্রশাসনকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, “যদি সময়ের মধ্যে ন্যায়বিচার না হয়, মৌলভীবাজার জ্বালবে প্রতিরোধের আগুন”।
গত ৭ আগস্ট রাতে দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাতে নিহত হন শমশেরনগরের সম্মানিত ব্যবসায়ী রুবেল। এই হত্যাকাণ্ডে ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা শহর। আজ সকাল থেকেই চৌমুহনা সড়কে জমায়েত হয়েছেন ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক দলের কর্মী, স্থানীয় যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষ। তাদের হাতে প্ল্যাকার্ডে লেখা—”হত্যার বিচার চাই”, “আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার করো”।
ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে বক্তারা অভিযোগ তোলেন, “মৌলভীবাজারের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ হুমকির মুখে। স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলায় দিনদিন বেড়েছে অপরাধের গ্রাফ” । তারা দাবি করেন, রুবেল হত্যার পেছনে সংঘবদ্ধ চক্র কাজ করছে, যা প্রশাসনের অন্ধকার সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত হতে পারে।
সমর্থন ও একাত্মতা: মানববন্ধনে যোগ দিয়েছেন জেলা বিএনপি সহ স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। তারা একযোগে বলেন, “একজন নিরীহ ব্যবসায়ীর রক্তের দাবি উপেক্ষা করা যায় না।” স্থানীয় সিএনজি চালক সমিতিও এই আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে, যারা রুবেলকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রথম হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিল ।
পরবর্তী কর্মসূচি: ব্যবসায়ী সমিতির ঘোষণা অনুযায়ী, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার না হলে শুরু হবে ধর্মঘট, সড়ক অবরোধ ও প্রশাসন বিরোধী মিছিল। ইতিমধ্যে, মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গাজী মাহবুবুর রহমান তদন্তের অগ্রগতি জানালেও বিস্তারিত তথ্য দেননি ।
শেষ প্যারা: রুবেলের হত্যাকাণ্ড মৌলভীবাজারের শান্তিপ্রিয় মানুষকে নাড়া দিয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র সংশয়। স্থানীয়রা বলছেন, “শুধু রুবেল নয়, আমাদের সকলের নিরাপত্তাই আজ প্রশ্নের মুখে”। এখন সবাই তাকিয়ে আছে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে—ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারবে তো তারা?

