নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে অবৈধ করাতকল (স মিল)। অনেক প্রতিষ্ঠানের কোন প্রকার বৈধ কাগজপত্র বা লাইসেন্স নেই। আবার অনেক করাতকলের লাইসেন্সের মেয়াদ ৩ থেকে ৪ বছর আগে শেষ হয়ে গেলেও তা নবায়ন করা হয়নি। এর ফলে একদিকে যেমন এলাকার পরিবেশ ও বনাঞ্চল মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে, অন্যদিকে সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, অথচ যশোর বন বিভাগের কর্মকর্তা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার, জনবসতিপূর্ণ এলাকা এবং মহাসড়কের পাশে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে একের পর এক করাত কল গড়ে উঠেছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বনাঞ্চল বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকার নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে করাত কল স্থাপনে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনেক এলাকায় বিকল্প বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় বা খরচ বাঁচাতে পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর ডিজেলচালিত ইঞ্জিন দিয়ে এসব করাত কল চালানো হচ্ছে। দিন-রাত বিষাক্ত ধোঁয়া ও বিকট শব্দে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন আশপাশের বাসিন্দা ও পথচারীরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এসব নিয়মবহির্ভূত করাত কল পরিচালিত হলেও সামাজিক বন বিভাগের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা তদারকি নেই। করাত কল মালিকরা অবাধে ব্যবসা চালিয়ে গেলেও বন বিভাগের কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের এ বিষয়ে যেন কোনো ‘মাথাব্যথা’ নেই। প্রশাসনিক শিথিলতার সুযোগ নিয়ে অনেক মালিক লাইসেন্স নবায়ন করার তাগিদও অনুভব করছেন না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক করাত কল মালিক জানান, বন বিভাগের লোকজনের সাথে মাসিক ভিত্তিতে কিংবা গোপনে কোনো সমঝোতা বা যোগসাজশ থাকার কারণেই হয়তো বড় ধরনের কোনো অভিযান চালানো হয় না। ফলে ৩-৪ বছর ধরে লাইসেন্স নবায়ন না করেও নিশ্চিন্তে ব্যবসা চালানো সম্ভব হচ্ছে।
মনিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় করাতমিলের বিষয়ে জানার জন্য অমিতা মন্ডল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) কে, একাধিকবার ফোন দেওয়া হয় তিনি ফোন রিসিভ করেননি, এবং এম এম মিজানুর রহমান, ডেপুটি রেঞ্জার যশোর সামাজিক বন বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন তাকেও একাধিকবার ফোন দিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়েছিল তবে তিনি ও ফোন রিসিভ করেননি পরে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এই দুই কর্মকর্তা বিভাগীয় বড় পদে দায়িত্ব পালন করছেন অথচ ফোন দিলে ফোন রিসিভ করেন না।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে সামাজিক বন বিভাগের উদ্যোগে মনিরামপুরের সব অবৈধ করাত কল চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নবায়নের আওতায় এনে বকেয়া রাজস্ব আদায় এবং পরিবেশ রক্ষায় ডিজেলচালিত ক্ষতিকর ইঞ্জিন বন্ধের জোর দাবি জানান তারা।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page