
জসিম তালুকদার, চট্টগ্রাম :
চট্টগ্রামের বাঁশখালীর ঐতিহ্যবাহী ও দীর্ঘ ৩২ কিলোমিটারের জলকদর খাল আধুনিকায়ন ও পুনঃখনন করা বর্তমানে অত্যন্ত জরুরী। দীর্ঘ ৪৫ বছর পর সম্প্রতি খালটির আংশিক খনন কাজ শুরু হলেও, এর পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় বাঁশখালীতে সম্প্রতি ২ হাজার ৪০০ মিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খানখানাবাদ, বাহারছড়া ও সাধনপুর এলাকায় এই খনন কাজ চলছে। তবে ৩২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের মাত্র আড়াই হাজার মিটার (২.৫ কিমি) সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। তাই সমগ্র খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে আধুনিকায়ন করা এখন সময়ের দাবি।
খালে থাকা ৮৯টি স্লুইসগেট বেশিরভাগই বর্তমানে জরাজীর্ণ ও অচল হয়ে থাকার ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয় এবং স্থানীয়দের মাঝে জলাবদ্ধতা ও বন্যার সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ–বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল বলেন, বাঁশখালীর স্লুইচগেটগুলোর বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তাই এগুলো পর্যায়ক্রমে প্রতিস্থাপনের পাশাপাশি সময়ের চাহিদা অনুযায়ী সংখ্যাও বাড়াতে হবে। স্বল্পমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো বন্ধ করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। আর দীর্ঘমেয়াদে ৩৩টি স্লুইচগেট প্রতিস্থাপন, জলকদর খাল ও ছোট ছনুয়া খালের পুনঃখনন এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ পুনর্বিন্যাস (রি–সেকশনিং) কাজ অন্তর্ভুক্ত করে একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগামীতে ডিপিপিটি জমা দেওয়া হবে।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর দেলোয়ার হোসেন বলেন,জলাবদ্ধতা ও বন্যা হওয়ার প্রধান কারণ হচ্ছে খাল- বিলের ছড়া ভরাট হয়ে যাওয়াতেই বর্ষার অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে পারছেনা , যার ফলে শহর ও গ্রামে স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। জলকদর খাল খনন করে পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখলেই জলাবদ্ধতা দূর হবে বলে মনে করি।
তিনি আরো বলেন,পানি নিষ্কাশন ও খাল খননে সরকার এবং বিভিন্ন সংস্থা একযোগে কাজ করা জরুরী । বর্তমান বাস্তবতায় পানি প্রবাহের সঠিক ব্যবস্থাপনার জন্য দেশব্যাপী নদী ও খাল পুনরুদ্ধারের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে সরকার কে। বাংলাদেশ সরকারের পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের জলাশয় ও খাল পুনঃখনন করা জরুরী হয়ে পড়েছে ।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (LGED) তথ্যমতে, চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ছোট-বড় মিলে মোট ১৩৫টি সরকারি খাল (খাল, পুকুর, বিল ও পাহাড়ি ছড়া ইত্যাদির তালিকা) রয়েছে। উপজেলার প্রধান ও দীর্ঘতম খালটি বাঁশখালীর সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এবং প্রধান খাল জলকদর খাল। সাঙ্গু বা শঙ্খ নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে এটি বঙ্গোপসাগরে মিশে গেছে।
সোনাইছড়ি (হোনাইছড়ি) খাল, চেচুরিয়া খাল, বৈলছড়ি ইউনিয়নের একটি ঐতিহাসিক খাল, যা পুনঃখনন ও দখলমুক্ত করার কাজের জন্য পরিচিত বাঁশখালীতে জিয়াউর রহমানের খননকৃত চেচুরিয়া খাল। অন্যান্য মধ্যে রয়েছে, এলাকায় ছোট ছোট খাল ছনুয়া খাল, পাতালি খাল,উল্লেখযোগ্য খালের মধ্যে আরো রয়েছে বারিয়া বন ছড়া খাল, আচিলা খাল, কোদালা খাল, সোনাছড়ি খাল এবং পাইরাং ছড়া খাল। এই খাল গুলো শতভাগ খনন হলেই বাঁশখালী বন্যা ও জলবদ্ধতা মুক্ত হবে বলে জানান।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page