এস,এম মিল্টন সরকার ,
সাবেক ,আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি
বিষয়: বিগত ১৭ বছরের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের ন্যায্য মূল্যায়নের বিনীত আবেদন ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। আমি এস,এম মিল্টন সরকার, সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি ( সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু- আব্দুল মোনায়েম মুন্না কমিটি)
আজ কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তির হিসাব নিয়ে নয়, হাজার, হাজার ত্যাগী নেতাকর্মীর নীরব কান্না ও কষ্টের ভাষা হয়ে আপনার কাছে আজকের এই খোলা চিঠি লিখতে বসেছি
আমরা এমন একটি প্রজন্ম, যারা রাজনীতিকে কখনো ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে দেখিনি। আমরা রাজনীতিকে দেখেছি আদর্শের ইবাদত হিসেবে। রাজনীতি আমাদের কাছে কোনো পেশা নয়, কোনো শখ নয়—রাজনীতি আমাদের বিশ্বাস, আমাদের নেশা, আমাদের আত্মার স্পন্দন, সমাজ এবং দেশের মানুষের কাছে থেকে সেবা করার পথ প্রদর্শক ।
জীবনের দীর্ঘ পথচলায় কতবার হামলার শিকার হয়েছি, কত মামলা কাঁধে নিয়েছি, কতবার রক্ত ঝরেছে, কত স্বপ্ন ভেঙেছে—তার কোনো হিসাব নেই আমার মতো অনেকের অর্থ ব্যয় করেছি, সময় ব্যয় করেছি, পরিবারের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়েছি। শুধু একটি বিশ্বাস আমাদের টিকিয়ে রেখেছে—দল একদিন এই ত্যাগের মূল্য অবশ্যই দিবে ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আজ যখন দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে, তখন আনন্দের পাশাপাশি একটি নীরব বেদনা বুকের ভেতর কথা বলে। সেই বেদনা আমার একার নয়; এটি হাজার হাজার তৃণমূলের পরীক্ষিত নেতাকর্মীর। যারা দুঃসময়ে রাজপথ ছাড়েনি, যারা ঝড়ের রাতে পতাকা আঁকড়ে দাঁড়িয়ে ছিল রাজপথে,যারা মামলা-মোকদ্দমা, নির্যাতন, ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে দলের পাশে থেকেছে—আজ তাদের অনেকেই পরিবারের কাছে নিজের অবদানের পরিচয় দেওয়ার মতো একটি সম্মানও পায়নি।
আমরা পদ ভিক্ষা চাই না।আমরা চাই না অযোগ্যতার বিনিময়ে কোনো পদ।
আমরা চাই না ব্যক্তিগত কোন সুবিধা। আমরা চাই শুধু আমাদের ত্যাগের স্বীকৃতি। আমরা চাই, দলের গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, থানা, উপজেলা, জেলা ও মহানগর কমিটিগুলো গঠনের সময় পরীক্ষিত, ত্যাগী, যোগ্য ও সাংগঠনিক দক্ষ নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হোক।
কারণ ইতিহাস বলে—সুসময়ে অনেকেই আসে বসন্তের কোকিল হয়ে কিন্তু দুঃসময়ের সৈনিক খুব বেশি জন্মায় না ,দলের সাথে বেইমানী করে না ।
যারা রক্ত দিয়েছে, তারাই আবার প্রয়োজনে বুক পেতে দাঁড়াবে। যারা কারাগারের অন্ধকার দেখেছে, তারাই আবার গণতন্ত্রের আলোর জন্য লড়বে। যারা জীবনের সোনালি সময় দলকে দিয়েছে, তারাই আগামী দিনের কঠিন ঝড়েও দলের পতাকা উঁচু করে ধরে রাখবে।ত্যাগীরা মনে করে দলের সম্মান - নিজের আত্মসম্মানের সাথে সম্পৃক্ত ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনার নেতৃত্বে দলের নতুন যাত্রা আরও শক্তিশালী হোক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। সেই যাত্রায় ত্যাগের রাজনীতিকে মর্যাদা দিন, পরীক্ষিত নেতৃত্বকে মূল্যায়ন করুন এবং তৃণমূলের কর্মীদের মনে এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনুন যে, এই দলে ত্যাগ কখনো বৃথা যায় না।
আমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় পরিচয় কোনো পদ নয়—আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন কর্মী।
আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি আপনাকে সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও প্রজ্ঞা দান করুন। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার আরও সুদৃঢ় হোক।
“আমার আগে আমরা , আমাদের আগে দেশ, ক্ষমতার আগে জনতা সবার আগে বাংলাদেশ “
শ্রদ্ধা ও শুভ কামনায়
এস এম মিল্টন সরকার
সাবেক আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল (কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি)
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page