শেখ মোহাম্মদ পারভেজ
পাবনা জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মহোদয়ের দিক নির্দেশনায় বিশেষ অভিযান ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার অংশ হিসেবে জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম সফল অভিযান পরিচালনা করে পাবনা সদর থানা এলাকা থেকে চাঞ্চল্যকর অবৈধ অস্ত্র গুলি উদ্ধার করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকালে ১৬ জুলাই ২০২৬ খ্রিঃ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলা পুলিশের একটি চৌকস টিম পাবনা সদর থানাধীন দক্ষিণ রামচন্দ্রপুর চর মন্ডলপাড়া গ্রামস্থ পরীর মাঠ সংলগ্ন ইছামতি ক্যানেলের শালতলা ব্রীজের পাশে জনৈক রাশেদুল (পিতা- শুকুর শেখ) এর চা ও মুদি দোকানের সামনে ইটের সলিং রাস্তার উপর থেকে ০১ (এক) জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃত আসামির দেহ তল্লাশিকালে তার কাঁধে ঝুলানো একটি কালো রঙের ছোট সাইড ব্যাগ উদ্ধার করা হয়। উক্ত ব্যাগটি তল্লাশি করে ভেতরে লুকানো অবস্থায় ২টি সচল বিদেশি পিস্তল, ৩টি ম্যাগজিন এবং ২ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ধৃত আসামি রাতুল জব্দকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলির বিষয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করে। সে জানায় যে, তার পলাতক সহযোগী আরও কয়েকজন মিলে আর্জেন্টিনা দলের বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা উপলক্ষে রাতে ভুরিভোজের (খাওয়া-দাওয়া) আয়োজন করছিল। এই খরচের টাকা জোগাড় করতে তারা এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের নিকট থেকে জোরপূর্বক চাঁদা সংগ্রহ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় তারা স্থানীয় মুদি দোকানদার মোঃ জাকির-এর নিকট চাঁদা দাবি করে। কিন্তু জাকির চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে দুপুরে বৌ বাজার ব্রিজের ওপর জাকিরের মালিকানাধীন (ভাড়া দেওয়া) একটি অটোরিকশা আটকে দেয়। তারা জাকিরকে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে হুমকি দেয় যে, চাঁদা না দিলে অটোরিকশার ব্যাটারি বিক্রি করে সেই টাকা আদায় করা হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতির কারণে আসামিরা অটোরিকশাটি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। চাঁদা না পাওয়ার সেই ক্ষোভ থেকে, আর্জেন্টিনার খেলা চলাকালীন মুদি দোকানদার মোঃ জাকির হোসেনের বড় ধরনের ক্ষতি সাধন বা তাকে আক্রমণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করে আসামিরা। এই উদ্দেশ্যে পলাতক আসামিরা একটি ব্যাগে থাকা অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি ধৃত আসামি মোঃ রাতুলের কাছে এনে জমা রাখে এবং নিজের কাছে রাখতে বলে। পরবর্তীতে ডিবি পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে অন্যান্য পলাতক আসামিরা কৌশলে দৌড়ে পালিয়ে গেলেও রাতুলকে অস্ত্রসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির বিবরণ, মোঃ রাতুল ইসলাম (২৩), পিতা- মোঃ রাসেল ইসলাম, মাতা- রুনা খাতুন, সাং- মন্ডলপাড়া, পাবনা পৌরসভা ০২ নং ওয়ার্ড,থানা- পাবনা সদর, জেলা- পাবনা।
উদ্ধারকৃত আলামতসমূহ,লোহা ও পিতলের তৈরি, ফায়ারিং পিন ও ট্রিগার সংযুক্ত। ব্যারেলের একপাশে MADE IN USA এবং অপর পাশে 7.65 খোদাই করা আছে। কোনাকুনি দৈর্ঘ্য ৮ ইঞ্চি। বাটের উভয় পাশে নকশাকৃত পিতলের পাত ক্রু দ্বারা সংযুক্ত। উক্ত পিস্তলের ম্যাগাজিনে লোডেড অবস্থায় ছিল, যার পারকিউশন ক্যাপে KF 7.65 লেখা রয়েছে।
লোহা ও পিতলের তৈরি, ফায়ারিং পিন ও ট্রিগার সংযুক্ত ও সচল। কোনাকুনি দৈর্ঘ্য ৮ ইঞ্চি। বাটের উভয় পাশে স্ক্রু দ্বারা কাঠ সংযুক্ত এবং সাথে একটি খালি ম্যাগাজিন যুক্ত। লোহার তৈরি খালি ম্যাগাজিন, যাহার কোনাকুনি দৈর্ঘ্য ৪.৫ ইঞ্চি।
একটি কালো রঙের ছোট সাইড ব্যাগ যাহার উপরে arcti hunter লেখা রয়েছে।
একটি ব্যবহৃত পুরাতন এ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন যার মডেল নং-Symphony Z28, IMEI 1-356238111283822,ΙΜΕΙ 2-356238111283830
উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও কার্তুজ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট থানায় এজাহার দাখিল করা হয়েছে । এবং মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অত্র ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পাবনা জেলা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত আছে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page