মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জুয়েল,
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় গত এক মাসে ডাকাতি, গরু চুরি, সিএনজি অটোরিকশা চুরি ও বসতবাড়িতে চুরির ধারাবাহিক ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একের পর এক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, অধিকাংশ ঘটনায় এখনো চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার হয়নি। ফলে অপরাধীদের দৌরাত্ম্য দিন দিন বেড়েই চলেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
গত ৮ জুন থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত একটি ডাকাতি, ১৮টি গরু, দুটি সিএনজি অটোরিকশা এবং দুটি বসতবাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের মতে, বিচ্ছিন্ন নয়, বরং সংঘবদ্ধ একটি চক্র পরিকল্পিতভাবে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব অপরাধ সংঘটিত করছে।
ঘটনাগুলোর মধ্যে ৮ জুন লস্করপুর এলাকায় রিয়াজ মিয়ার গোয়ালঘর থেকে দুটি গাভি ও দুটি ষাঁড় চুরি হয়। ৯ জুন রাউৎগাঁও ইউনিয়নে মাহবুব মিয়ার সিএনজি অটোরিকশা চুরি হয়। একই রাতে উছলাপাড়া গ্রামের মুহিবুর রহমান খান মুয়ুবের বাসা থেকে স্বর্ণালংকার, নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায় চোরেরা।
এছাড়া হাজিপুর ইউনিয়নের বারইগ্রামে জহুর আলীর গোয়ালঘর থেকে চারটি গরু, ১৫ জুন কর্মধা ইউনিয়নের পরশাই বেরী গ্রামে মো. রফিক মিয়ার গোয়ালঘর থেকে চারটি গরু, ১৯ জুন কুলাউড়া সরকারি হাসপাতালের সামনে থেকে মো. সাহেল আহমদের সিএনজি অটোরিকশা এবং ২৩ জুন ভবানীপুর ও জলালপুর গ্রামে পৃথক ঘটনায় আরও পাঁচটি গরু চুরি হয়।
২৮ জুন বিয়ানীবাজার থেকে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেটকার লোহাইউনি চা-বাগান এলাকায় পুলিশ পরিচয়ে থামিয়ে ডাকাতি ও গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, পরে স্থানীয় জনতা গাড়িটি আটক করলে পুলিশ সেটি হেফাজতে নেয়।
পরবর্তীতে ৫ জুলাই কুলাউড়া শহরের হেলাল মঞ্জিলের একটি ভাড়াটিয়া বাসা, ৬ জুলাই টিবিএফ চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম শামীমের বাসায় মোবাইল ফোন চুরি এবং সর্বশেষ ১২ জুলাই রাতে কাদিপুর গ্রামের জামিল হোসেন রুয়েলের গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ জহিরুল ইসলাম মুন্না বলেন, পুলিশ তিনটি গরু ও একটি প্রাইভেটকার উদ্ধার করেছে। তবে উদ্ধার হওয়া গরুগুলোর মালিক সম্পর্কে তিনি কোনো তথ্য দেননি। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রাইভেটকারটি প্রথমে জনতা আটক করেছিল, পরে পুলিশ সেটি নিজেদের হেফাজতে নেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ধারাবাহিক এসব অপরাধের ঘটনায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা ও দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। তারা সংঘবদ্ধ চোরচক্র ও ডাকাত দলের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান, নিয়মিত রাতের টহল এবং দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page