নিজস্ব প্রতিনিধি,
চার দিন ধরে থইথই করছে পানি। বৃষ্টির তোড়ে কোনটি রেললাইন আর কোনটি খালের হাঁটার পথ, তা বোঝার উপায় নেই। নগরের সুন্নিয়া মাদরাসা থেকে শমসেরপাড়া পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার রেলপথ দুদিন ধরে পানির নিচে তলিয়ে আছে। এই পরিস্থিতিতে দুর্ঘটনা এড়াতে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বুধবার সকালে চট্টগ্রাম নগরে ডুবে থাকা এই রেললাইন পরিদর্শনে যান রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। সকাল পৌনে ১০টায় চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে রেলওয়ের ট্র্যাক পরিদর্শনকারী বিশেষ যান ‘গ্যাংকারে’ চড়ে প্রশাসন ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে দেখা যায়, নগরের ষোলোশহর স্টেশনের পরপরই রেলপথ পানির নিচে। মুরাদপুর পার হওয়ার পর সুন্নিয়া মাদরাসা এলাকায় রেললাইন ও পাশের খালের পানি একাকার হয়ে গেছে। শমসের পাড়া এলাকায় লাইনের ওপর তীব্র স্রোত বইছে। সেখানে গ্যাংকার থেকে নেমে রেল প্রতিমন্ত্রী ও সিটি মেয়র হাঁটুর ওপর পানি ডিঙিয়ে বেশ কিছু পথ হেঁটে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ জানান, এই সেকশন নিয়ে সরকারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারী পর্যন্ত ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রেললাইনটি আরও ৫ ফুট উঁচু করা। ইতোমধ্যে দরপত্রপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। রেলপথ যখন উঁচু করা হবে তখন ৩ ফুট পানি বাড়লেও রেল চলাচল কোনো সমস্যা হবে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুদিন ধরে যে বৃষ্টি হচ্ছে তা রেকর্ডসংখ্যক। অনেকে বলছেন গত ৪৫ বছরেও এত বৃষ্টি চট্টগ্রামে হয়নি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হচ্ছে রেললাইন উঁচু করা, যাতে ভারী বৃষ্টি হলেও রেল চলাচল বিঘ্নিত না হয়।
রেলপথ নির্মাণে কোনো ত্রুটি নেই দাবি করে রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘৪৫ বছর আগে এ রকম বৃষ্টি হয়েছিল। আমরা এটা রেকর্ড রাখছি বৃষ্টিতে রেললাইন কী পরিমাণ ডুবে যাচ্ছে। কোথাও দুই ফুট, কোথাও তিন ফুট। তাই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উঁচু করা, যাতে ডুবে না যায়।’
সূত্র :বাংলাদেশ প্রতিদিন
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page