অনুসন্ধান প্রতিবেদন ,
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯টার মধ্যে অফিসে উপস্থিত থাকার বাধ্যবাধকতা থাকলেও কর্মকর্তা তোয়াক্কাই করছেন না যশোরের সামাজিক বন অঞ্চলের বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ। কর্মস্থলে নিয়মিত দেরিতে আসার পাশাপাশি তার কার্যালয়ে প্রতিদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করারও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে সাংবাদিকরা মুখোমুখি হলে কোনো রকম অনুশোচনা ছাড়াই দায়সারা ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ।
অনুসন্ধানে গিয়ে দেখা যায়, বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ প্রায়শই নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে অফিসে আসেন। বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসার পর, আজ মঙ্গলবার ( ৭'জুলাই') কার্যদিবসে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে সাংবাদিকরা যশোর শহরের বন সংরক্ষক কার্যালয়ে সরেজমিনে যান। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, সরকারের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার কক্ষটি খালি এবং তিনি তখনও কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন।
বন সংরক্ষকের অনুপস্থিতির বিষয়ে কার্যালয়ের রেঞ্জ কর্মকর্তা হাফিজ উদ্দিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, "স্যার এখনো আসেননি, কাল একটু লেট করে গেছে তো তার পর হয়তোবা খেলা দেখছে মনে হয়, তাই আসতে একটু লেট (দেরি) হবে"। বন সংরক্ষক এর পিএস সজিব তিনি ও ১০.০২ মিনিটে অফিসে প্রবেশ করেন। এরপর বন সংরক্ষকের পিএস সজিব তাকে মুঠোফোনে বিষয়টি জানালে তিনি, সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তড়িঘড়ি করে তিনি অফিসে প্রবেশ করেন। সরকারের বেঁধে দেওয়া সময়সূচির চেয়ে যা প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর অফিসে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
অফিসে দেরিতে আসার কারণ এবং সরকারি সময়ের বরখেলাপ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, "এটা তো পাবলিক ফাংশন না, অফিসের কাজ করা হয়; তাই একটু লেট হয়।" একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার মুখে এমন বক্তব্য উপস্থিত সাংবাদিকদের স্তব্ধ করে দেয়।
এদিকে, 'বাংলাদেশ ফ্ল্যাগ রুলস' অনুযায়ী প্রতিটি সরকারি দপ্তরে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রতিদিন জাতীয় পতাকা উত্তোলনের স্পষ্ট আইন ও নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এই কার্যালয়ে তা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করা হচ্ছে। গতকালও অফিস চলাকালীন সেখানে কোনো জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যায়নি। প্রতিদিন পতাকা উত্তোলন না করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি অত্যন্ত হালকাভাবে বলেন, "আমাদের অফিসে সবসময় পতাকা উত্তোলন করা হয় না। তবে বিভিন্ন দিবসে আমরা পতাকা উত্তোলন করে থাকি।
যশোরের সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারের একজন প্রথম শ্রেণীর শীর্ষ কর্মকর্তা হয়েও এভাবে নিয়মিত সময় ফাঁকি দেওয়া এবং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ প্রতীক জাতীয় পতাকার প্রতি অবহেলা এবং অসম্মান প্রদর্শন করা শুধু দায়িত্বহীনতাই নয়, বরং সরকারি নিয়মকানুনের চরম লঙ্ঘন ও অপরাধের শামিল। এভাবে সময় না মেনে অফিস করা রাষ্ট্র ও জনগণকে ফাঁকি দেওয়ার একটি নিকৃষ্ট উদাহরণ।
দায়িত্বজ্ঞানহীন এই বন সংরক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয় ও সচেতন নাগরিকেরা।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page