মোঃ জাহিদ হোসেন জিমু
গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের রসুলপুর এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের কবলে পড়ে মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি। চোখের সামনে নিজের বসতভিটা নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে দেখে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। ভাঙন আতঙ্কে রাত নির্ঘুম কাটছে এলাকাবাসীর।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, রসুলপুর এলাকায় নদীপাড়ের মাটি ধসে পড়ছে। নদীর স্রোতের তীব্রতায় পাড় ভেঙে বড় বড় অংশ পানির তোড়ে তলিয়ে যাচ্ছে। গ্রামটির অনেক পরিবারই এখন তাদের একমাত্র সম্বল বসতভিটা হারানোর দ্বারপ্রান্তে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন চললেও নদী শাসনের জন্য কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
ক্ষতিগ্রস্ত একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, "আমরা অসহায়। চোখের সামনে আমাদের জমি নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের এখন আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। প্রশাসনকে বারবার জানানোর পরও নদীভাঙন রোধে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ভাঙন আর কতটা দীর্ঘ হবে, জানি না।"
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, "নদী ভাঙতে ভাঙতে এখন বাড়ির দোরগোড়ায় এসে পৌঁছেছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমাদের ঘরবাড়ি আর থাকবে না। সরকারের কাছে আমাদের একটাই আকুতি, দ্রুত যেন নদী ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে আমাদের রক্ষা করা হয়।"
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীভাঙন রোধে দীর্ঘদিনের দাবি থাকলেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এতে করে সহায়-সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার ভয়ে দিন কাটাচ্ছেন রসুলপুর গ্রামের শত শত পরিবার।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে নদী তীরবর্তী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে জিও ব্যাগ বা স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে নদীভাঙন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page