নিজস্ব প্রতিনিধি,
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে নতুন গতি আনবে।
তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে এবং এর সফল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী দিনে অর্থনৈতিকভাবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে পৌছাবে। তিনি এ জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেটের মাধ্যমে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে মৎস্য খাতে ৬০৪ কোটি টাকা এবং প্রাণিসম্পদ খাতে প্রায় ১ হাজার ১১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বরাদ্দের মাধ্যমে দুই খাতের উৎপাদন, আধুনিকায়ন এবং রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, সর্বশেষ পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশীয় খামারিদের উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো পশু প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য সরকার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিল। এতে দেশীয় খামারিরা উপকৃত হয়েছেন।
মৎস্য খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের রপ্তানি আরও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে প্রাণিসম্পদ খাতের খামারিদের অর্থনৈতিক অবস্থারও উন্নয়ন হবে।
তিনি পোল্ট্রি শিল্পের বিকাশে কৃষি খাতের মতো কর ও শুল্ক সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রীর প্রতি এ খাতে শুল্ক কমানোর অনুরোধ জানান।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর প্রস্তাব এবং সামাজিক সুরক্ষা খাতে ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের পরও এ বাজেটকে ‘গরিব মারার বাজেট’ বলা অযৌক্তিক। তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা এবং কৃষি ঋণ মওকুফের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের সহায়তা সরাসরি তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের হাতে পৌছে যাচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি বিধ্বস্ত অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়ে বর্তমান সরকার কাজ শুরু করেছে। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
নিজ নির্বাচনী এলাকা টাঙ্গাইলের উন্নয়নের বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যবাহী টাঙ্গাইল শাড়ি একটি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও তাঁতিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া, সরকারি সাদত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করা, টাঙ্গাইলে আধুনিক ট্রেন সার্ভিস চালু এবং স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও জোরদারের দাবি জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদ এখন ঐক্যের প্রতীক। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক সফল বিদেশ সফর নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের ইতিবাচক বক্তব্য জাতির জন্য ঐক্যের বার্তা বহন করে। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে এই ঐক্যের ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।
সূত্র : বাসস
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page