সৌভিক পোদ্দার,
ঝিনাইদহ শৈলকূপা উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে মাদক বিরোধী অভিযান, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, ইয়াবা ও গাঁজা সহ বিভিন্ন ব্যক্তি কে আটক এবং তাৎহ্মণিক সাজা দেওয়ার ঘটনা নিয়মিত দেখা যাচ্ছে। কোথাও মিলছে কয়েক পিস ইয়াবা,কোথাও স্বল্প পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার, আবার কোথাও তাৎহ্মণিক জরিমানা কিংবা কারাদণ্ড দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের এসব অভিযানকে ইতিবাচক হিসেবে দেখলেও স্থানীয়দের একাংশের মধ্যে নতুন কিছু প্রশ্ন সামনে আসছে।
সম্প্রতি ‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগানকে সামনে রেখে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে গণসংযোগ, র্যালি ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে মাদক প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান শৈলকুপায় মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির ঘোষণা দিয়েছেন। মাদকের বিরুদ্ধে তার এই অবস্থান স্থানীয় জনমহলে প্রশংসিত হয়েছে। তবে সাধারণ মানুষের একটি অংশের প্রশ্ন ঘোষণা ও অভিযান চললেও বাস্তবে পরিস্থিতির কতটা পরিবর্তন ঘটছে?
সচেতন নাগরিকদের অনেকের প্রশ্ন, মাদকবিরোধী অভিযানে খুচরা পর্যায়ের বিক্রেতা বা ব্যবহারকারীরা ধরা পড়লেও এর পেছনের সরবরাহকারী চক্র কতটা শনাক্ত হচ্ছে? মাদক কোথা থেকে আসছে, কারা তা সরবরাহ করছে এবং কীভাবে স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দৃশ্যমান অভিযানের পাশাপাশি মাদকের উৎস, সরবরাহ নেটওয়ার্ক এবং এর অর্থনৈতিক সংযোগ খুঁজে বের করাও জরুরি। তাদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি মাদকের মূল হোতা ও বিস্তৃত চক্রের বিরুদ্ধেও সমান গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেবে।
স্থানীয়দের কেউ কেউ মনে করেন, শুধু নামমাত্র গ্রেপ্তার বা তাৎক্ষণিক সাজা দিয়ে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মাদকের প্রবাহ কীভাবে বন্ধ করা যায়, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তবে এ বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হলে বাস্তব চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তারা।
বিশ্লেষকদের মতে, শুধু গ্রেপ্তার বা তাৎক্ষণিক সাজা দীর্ঘমেয়াদে মাদক নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট নয়। কার্যকরভাবে মাদক প্রতিরোধে প্রয়োজন গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান, সরবরাহ চক্র শনাক্তকরণ, পুনরাবৃত্ত অপরাধ পর্যবেক্ষণ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শুধু উদ্ধার ও গ্রেপ্তার নয়,মাদকের পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করে তা ভেঙে দিতে আর ও কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যােগ নেওয়া হবে। কারণ, মাদক মুক্ত সমাজ গঠনে আইনে প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধেরও সমান গুরুত্বপুর্ণ।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page