মোঃ মোনাহার মিয়া
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার নিলক্ষিয়া উত্তর পাড়া গ্রামের বাসিন্দা জামান খন্দকার (৩২) দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে এক অজানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
একসময় তিনি ছিলেন এলাকার একজন পরিচিত হাফেজ ও ইমাম। দীর্ঘ ৫ বছর ধরে তিনি বায়তুল মামুর মসজিদে ইমামতি করেছেন। ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা অর্জন করলেও আজ অসুস্থতার কারণে তিনি অসহায় জীবন কাটাচ্ছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে হঠাৎ করেই জামান খন্দকার অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমদিকে সাধারণ অসুস্থতা মনে হলেও ধীরে ধীরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। বর্তমানে তিনি দুই পায়ে পর্যাপ্ত শক্তি পান না, স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না এবং কর্মক্ষমতা প্রায় হারিয়ে ফেলেছেন। ফলে জীবনের অধিকাংশ সময় তাকে ঘরেই কাটাতে হচ্ছে।
জামান খন্দকার জানান, অসুস্থ হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা নিয়েছেন। কিন্তু এখনো তার রোগের সঠিক কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে পরিবার আর্থিক সংকটে পড়ে গেছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধের অভাবে তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।
জামানের বাবা মনরউদ্দিন খন্দকার বলেন, “আমার ছেলে একসময় সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করত। মসজিদে ইমামতি করে সংসার চালাত। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর থেকে তার জীবন পুরোপুরি বদলে গেছে। এখন চিকিৎসার খরচ চালানো আমাদের পক্ষে খুবই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”
জামান খন্দকারের সংসারে রয়েছে দুই সন্তান। বড় ছেলের বয়স ৭ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স মাত্র ১ বছর ৫ মাস। বাবার অসুস্থতার কারণে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। সংসারের আয়-রোজগার প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জামান খন্দকার একজন ধর্মভীরু ও সৎ মানুষ হিসেবে এলাকায় পরিচিত। দীর্ঘদিন ইমামতি করে মানুষের মাঝে ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতার বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু আজ তিনি নিজেই কঠিন সময় পার করছেন। তার বর্তমান অবস্থা দেখে এলাকাবাসী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে জামান খন্দকারের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি তার পরিবারের আর্থিক দুর্ভোগও কিছুটা লাঘব হবে।
একসময় যিনি মসজিদের মিম্বারে দাঁড়িয়ে মানুষকে দ্বীনের পথে আহ্বান জানিয়েছেন, আজ সেই মানুষটিই অসুস্থতা ও অভাবের সঙ্গে লড়াই করছেন। সমাজের মানবিক ও সহৃদয় ব্যক্তিদের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশা জাগতে পারে জামান খন্দকারের জীবনে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page