নিজস্ব প্রতিবেদক
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক তথ্যে বলা হয়েছে, পদ্মা সেতুর প্রতিটি পিলার অত্যন্ত গভীর ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত, যা আধুনিক প্রকৌশলের এক অনন্য উদাহরণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মা নদীর তীব্র স্রোত, ভাঙনপ্রবণ তলদেশ ও ভূতাত্ত্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই নির্মিত হয়েছে দেশের গর্ব পদ্মা বহুমুখী সেতু।
পদ্মা সেতুর ৪২টি পিয়ারের (পিলার) ভিত্তি গড়ে তোলা হয়েছে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন স্টিল পাইলের ওপর। এসব পাইল মাটির গভীরে প্রায় ১০০ মিটার বা তারও বেশি পর্যন্ত প্রবেশ করানো হয়েছে, যাতে নদীর তলদেশে ক্ষয় (Scour), প্রবল স্রোত এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলা করেও সেতুর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা যায়। কিছু ক্ষেত্রে পাইলিংয়ের গভীরতা ১২৫ মিটার (৪১১ ফুট) পর্যন্ত পৌঁছেছে বলে প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রকৌশলীরা জানান, পদ্মা নদীর তলদেশে সময়ের সঙ্গে মাটির স্তর পরিবর্তিত হওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তাই শুধুমাত্র উপরের মাটির ওপর নির্ভর না করে শক্ত মাটির স্তর পর্যন্ত পাইল স্থাপন করা হয়েছে। ফলে নদীর তলদেশের উল্লেখযোগ্য অংশ সরে গেলেও সেতুর মূল কাঠামো নিরাপদ থাকবে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, পদ্মা সেতুর ফাউন্ডেশন নির্মাণ ছিল পুরো প্রকল্পের সবচেয়ে কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং অংশ। আধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষ নকশা এবং আন্তর্জাতিক মানের নির্মাণ উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে এ চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা করা হয়েছে।
পদ্মা সেতু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তই উন্মোচন করেনি, বরং বাংলাদেশের প্রকৌশল সক্ষমতারও এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page