নিজস্ব প্রতিনিধি :
বাগেরহাটের ঐতিহাসিক হযরত খানজাহান আলী (রহ.) মাজার সংলগ্ন দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন। মাজারে আগত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী ও ভক্তদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গতকাল মঙ্গলবার গভীর রাতে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
মঙ্গলবার রাত ১০টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। সভায় জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন জানান, সাম্প্রতিক মর্মান্তিক ঘটনার পর মাজার এলাকায় আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাজার এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, কুমিরটি স্থানান্তরের জন্য বুধবার খুলনা থেকে বিশেষজ্ঞদের একটি দল বাগেরহাটে আসবে। দলটি কুমিরটির আচরণ ও অবস্থান পর্যবেক্ষণ করে ধরার কৌশল, স্থানান্তরের সময় এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি বিষয় নির্ধারণ করবে।
উল্লেখ্য, সোমবার রাত ৮টার দিকে মাজার সংলগ্ন দীঘিতে গোসল করতে নেমে ৮ বছর বয়সী ফাতেমা আক্তার কুমিরের আক্রমণের শিকার হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিরটি শিশুটির পা ধরে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়। পরে মঙ্গলবার ভোরে মাজার সংলগ্ন দীঘির মহিলা ঘাট এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হৃদয় বিদারক এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা, দর্শনার্থী ও ভক্তদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। তারা মাজার এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং কুমিরটিকে দ্রুত সরিয়ে নেয়ার দাবি জানান। জনমনে সৃষ্ট আতঙ্ক ও নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা প্রশাসন কুমিরটি স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।
জেলা প্রশাসনের এমন জনগুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বাগেরহাটের সুধিজন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাসস’কে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
সূত্র : বাসস...
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page