
মো: জাকিরুল ইসলাম :
রাজধানীর বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে হকারদের অবৈধ দোকানের সংখ্যা। অভিযোগ রয়েছে, স্টেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা জিআরপি ও আরএনবি পুলিশের কিছু সদস্যের মদদে গড়ে উঠছে এসব দোকান। স্টেশন এলাকায় সরেজমিন দেখা যায়, রেললাইন ও লেভেল ক্রসিং ঘিরে গড়ে উঠেছে শতাধিক দোকান। এসব দোকান চলে স্টেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের মাসোহারা দিয়ে। না দিলে শুরু হয় উচ্ছেদ অভিযান। এসব দোকানের কারণে স্টেশন এলাকায় ট্রেনযাত্রীদের জন্য তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা ঝুঁকি।
অভিযোগ আছে, রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় অস্থায়ীভাবে দোকান পজিশনের জন্য প্রত্যেক হকারের কাছ থেকে নেওয়া হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। এ ছাড়া স্টেশন এলাকায় ভিক্ষুক, ছিন্নমূল শিশু, টোকাই, পকেটমার, মাদকসেবী, ছিনতাইকারীসহ অপরাধীদের দৌরাত্ম্য তো আছেই। তবে হকারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন স্টেশনের নিরাপত্তা কর্মীরা। তারা জানান, স্টেশন এলাকায় হকারসহ বিভিন্ন অপরাধ চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হয়। রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা আশকোনা। এখানে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, হজক্যাম্প, বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা স্কুল অ্যান্ড কলেজ ছাড়াও অর্ধশত আবাসিক হোটেল ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়ায় হাজার হাজার মানুষকে ব্যবহার করতে হয় বিমানবন্দর রেলস্টেশন সংলগ্ন আশকোনা লেভেল ক্রসিং। আন্তঃনগর ট্রেন বিমানবন্দর স্টেশনে থামায় অসংখ্য যাত্রীও এ ক্রসিং ব্যবহার করেন। কিন্তু স্টেশন এবং লেভেল ক্রসিং ঘিরে বসানো এসব অবৈধ টং দোকানে সারাক্ষণ জটলা লেগে থাকে। দোকানের ওপর বড় বড় ছাতা বসানোয় ট্রেন এলেও অধিকাংশ সময় দেখা যায় না। এ ছাড়া বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্রসিংয়ের প্রতিবন্ধক (ব্যারিয়ার) ফেলেন হকাররা। এতে বড় দুর্ঘটনা ঘটারও শঙ্কা রয়েছে।
বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে স্টেশনের নানা অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা মনে করেন, রেলওয়ে স্টেশন ও লেভেল ক্রসিংয়ের এ অবস্থা ভয়ংকর বার্তা দিচ্ছে। বড় দুর্ঘটনা ঘটলেই শুধু টনক নড়বে কর্তৃপক্ষের।সরেজমিন দেখা যায়, রেললাইন ও লেভেল ক্রসিং ঘিরে ভ্রাম্যমাণ হকাররাও পণ্য বিক্রি করছেন। সেই সঙ্গে শতাধিক টং দোকানে চিরচেনা জটলা। আলাপকালে আবেদুর, রোয়ানসহ কয়েকজন হকার জানান, স্টেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে মাসোহারা দিয়ে তাঁরা ব্যবসা করছেন। একদিন টাকা দিতে দেরি হলেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়।
এ বিষয়ে বিমানবন্দর জিআরপি পুলিশ ফাঁড়ির এস আই হারুন অর রশিদ জানান, স্টেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে আছে জিআরপি ও আরএনবি পুলিশ। দায়িত্ব পালনকালে সবার গায়েই থাকে পোশাক। তিনি বলেন, কোনো পোশাকের পুলিশ বা নিরাপত্তা কর্মী টাকা নিয়ে বিমানবন্দর স্টেশন এলাকায় হকারদের কাছে দোকানের পজিশন বিক্রি করছেন কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে। এসব অনিয়মের সঙ্গে জিআরপির পুলিশ সদস্য জড়িত নয় l তিনি বলেন, তারা প্রায়ই হকারদের বিরুদ্ধে অভিযান চালান। অভিযানের পর কয়েক দিন ঠিক থাকলেও আবারও তাঁরা এসে বসে যান।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page