
মোঃ তরিকুল ইসলাম খান
ধর্মীয় কটুক্তি: সমাজে বিভাজন নয়, সম্প্রীতির বার্তা প্রয়োজন
মানুষের জীবনে ধর্ম শুধু বিশ্বাসের নাম নয়, এটি নৈতিকতা, মানবতা ও শান্তির পথপ্রদর্শক।
পৃথিবীর প্রবতিটি ধর্মই মানুষকে ভালোবাসা, সহনশীলতা ও পরস্পরের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা দেয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ধর্মীয় কটুক্তি, বিদ্বেষমূলক মন্তব্য ও উসকানিমূলক বক্তব্য উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সমাজে বিভেদ, সংঘাত এবং অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বাংলাদেশ বহু ধর্ম, বহু সংস্কৃতি ও বহু মতের মানুষের দেশ। এখানে যুগ যুগ ধরে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। এ দেশের ইতিহাস সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের ইতিহাস। তাই কোনো ধর্মকে অবমাননা করা বা কারও বিশ্বাস নিয়ে বিদ্রূপ করা শুধু একজন ব্যক্তিকে আঘাত করে না, বরং পুরো সমাজের শান্তি ও ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
ধর্মীয় কটুক্তির সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো—এটি মানুষের মধ্যে ঘৃণা ছড়িয়ে দেয়। একটি অসচেতন পোস্ট, একটি উসকানিমূলক বক্তব্য কিংবা একটি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। অনেক সময় কিছু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য বা জনপ্রিয়তা পাওয়ার আশায় ধর্মকে ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করে। অথচ ধর্ম কখনোই বিদ্বেষ শেখায় না।
বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। কোনো কিছু যাচাই না করে শেয়ার করা, অন্যের ধর্ম নিয়ে ব্যঙ্গ করা কিংবা উত্তেজনামূলক মন্তব্য করা সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না। মত প্রকাশের স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ, তবে সেই স্বাধীনতা কখনো অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অধিকার দেয় না।
রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরও এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। যারা ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় উসকানি দেয় এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তাদের বিরুদ্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় নেতাদেরও সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করতে হবে।
আমাদের মনে রাখতে হবে, ধর্ম মানুষকে বিভক্ত করার জন্য নয়; বরং মানবতার বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য। তাই ধর্মীয় কটুক্তি নয়, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও সম্প্রীতির চর্চাই হতে পারে একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের মূল চাবিকাঠি।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page