
সাধন সাহা জয়-ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেপুর ইউনিয়নে ডেকোরেটর ব্যবসায়ী রুবেল মিয়ার ওপর নিজ পরিবারের সদস্যদের নির্মম নির্যাতনের ঘটনায় এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছরের সংসারে তিন মেয়ে ও এক ছেলের জনক রুবেলকে কেবল কাজে সহযোগিতা করতে বলায় স্ত্রী, শাশুড়ি ও ছেলে মিলে পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছে। এই ঘটনায় লোকলজ্জা আর ক্ষোভে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ‘কেড়ির বড়ি’ (কীটনাশক) ও অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে আত্মহত্যারও চেষ্টা চালান। বর্তমানে উল্টো স্ত্রীর করা মামলার আসামি হয়ে সপরিবারে বিচার চেয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ও প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন তিনি। প্রায় এক মাস আগে ঘটে যাওয়া এই রোমহর্ষক ঘটনাটি লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও, সরজমিনে অনুসন্ধানের পর তা এখন প্রকাশ্যে এসেছে।
সরজমিনে ভুক্তভোগী রুবেল মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
"যে ছেলের মুখে অন্ন জোগাতে দিনরাত খাটছি, সেই ছেলে মায়ের প্ররোচনায় আমার গায়ে হাত তুলল! ছেলের হাতের মাইর খামো—এটা কখনও ভাবিনি। এই দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে না পেরে আমি কেড়ির বড়ি খাইতে গেছিলাম। বড়ি না পেয়ে পরে জিদের মাথায় অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে মরতে চেয়েছিলাম।"
রুবেল আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তাঁর ব্যবহৃত মোবাইলটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়, যাতে বিকাশে ৪০ হাজার টাকা ছিল। ঘাতক চক্র বিকাশের পিন নম্বর জানত এবং মোবাইল থেকে সিম কার্ডটিও খুলে রাখা হয়েছে। এরপর তাঁর স্ত্রী ঘরের সমস্ত আসবাবপত্র ও মালামাল লুট করে বাপের বাড়িতে চলে যায়।
রুবেলের বড় ভাই, বড় বোন ও এলাকাবাসীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। তারা জানান, ঘটনার সময় স্থানীয় একজন এই নির্মম মারধরের দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে প্রভাবশালী মহলের চাপে সেই ভিডিওটি আর কাউকে দেওয়া হয়নি, তা গায়েব করে ফেলা হয়েছে।
স্বজনরা জানান, ঘটনার পর তারা আইনের আশ্রয় না নিয়ে প্রথমে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের কাছে বিচার চেয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘ এক মাসেও চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে কোনো সুষ্ঠু সমাধান বা বিচার পাননি তারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রুবেলকে এভাবে রক্তাক্ত জখম করার পরও তাঁর স্ত্রী লাকী আক্তার উল্টো রুবেলের নামেই নবীনগর থানায় একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মহিলা অত্যন্ত উগ্র প্রকৃতির। একজন স্বামী ও পিতার ওপর এভাবে সন্তান ও শাশুড়ি নিয়ে হাত তোলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এই সাজানো মামলার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।"
তবে মারধরের বিষয়টি স্বীকার করলেও টাকা লুটের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রুবেলের স্ত্রী লাকী আক্তার। তিনি বলেন,
"ঘটনা সত্য, তবে রুবেল নিয়মিত নেশা করত এবং নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রায়ই আমাদের মারধর করত। বিকাশে টাকা থাকার কথা সম্পূর্ণ মিথ্যা। সিম কার্ডটি আমার নিজের নামে নিবন্ধিত ছিল, তাই আমি নিয়ে এসেছি। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, রুবেলের সাথে আর কোনো সংসার করব না।"
একটি সাজানো সাজ সংসার এভাবে ভেঙে যাওয়া এবং নিজ সন্তানের হাতে পিতার রক্তাক্ত হওয়ার ঘটনায় পুরো লাউর ফতেপুর ইউনিয়নে নিন্দার ঝড় বইছে। এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগী পরিবার এই একপেশে জুলুমের অবসান ঘটাতে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও নবীনগর থানা প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
।। প্রকাশক ও সম্পাদক : মো: শিহাব উদ্দিন ।। নির্বাহী সম্পাদক : জি.এস. জয় ।। বার্তা-সম্পাদকঃ আবু নাছের
দৈনিক জন জাগরণ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত@২০২৬You cannot copy content of this page